মুসলমানদের কাছ থেকে জ্ঞান আহরণ করে তা কাজে লাগিয়ে আজকে ইউরোপ-আমেরিকা তথা পশ্চিমা বিশ্ব অনেক দূর এগিয়ে গেলেও মুসলিম সম্প্রদায় যেন ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে কিংবা একই অবস্থায় পতিত রয়েছে।
ইস্তাম্বুলের উস্কুদার বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. আলপাসলান আচিকজেঙ্ক এমন মন্তব্য করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর মানববিদ্যা গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে বর্তমান বিশ্ব-ব্যবস্থায় দর্শন শাস্ত্রের ভূমিকা বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি আরো বলেন, দর্শন ও সামাজিক বিজ্ঞানে যেই দেশ যত পিছিয়ে সেই দেশ ততই অনুন্নত।
তিনি বলেন, একটি দেশ কতটা উন্নত তা শুধু কল-কারখানা ও বস্তুবাদী উপাদান দিয়েই নিরুপন করা যায় না।
যেই দেশে ন্যায় বিচার, সততা ও সহমর্মিতার মতো বিষয়কে উপেক্ষা করা হয়, শুধুমাত্র বস্তুবাদী উপাদানের মাপকাঠিতে সব মূল্যায়ন করা হয় তা কখনোই উন্নত দেশ হতে পারে না।
অধ্যাপক আচিকজেঙ্ক আরো বলেন, শুধুমাত্র আজকের দিনকে ভেবে কাজ করলে হবে না আগামী প্রজন্মকে বিবেচনায় রেখেই সব কাজ করতে হবে।
”আমাদেরকে ভাবতে হবে আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্ম কোন কাজগুলো করে গেছেন এবং তার সুফল তারা না পেলেও আমরা পাচ্ছি। একইভাবে আমরা কোন কাজ করে যেতে পারবো যার সুফল আমরা না পেলেও পরবর্তী প্রজন্ম পাবে।”
তিনি বলেন, একটি জাতির প্রকৃত ও টেকসই উন্নয়ন সহসাই অর্জন করার মতো কোনো বিষয় নয়, এতে দশকের পর দশকে সময় লাগে। “তাই কখনো হতাশ হতে নাই। প্রত্যেককে তার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে নিজের কাজটুকু সর্বোচ্চ সুন্দরভাবে করতে হবে।”
তিনি বলেন, যেই সমাজে যত বেশি মানুষ তার নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে সেই সমাজ তত বেশি এগিয়ে যায়।
একটি দেশের প্রজন্মকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে ও তাদের মানসিক বিকাশের জন্য ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম বলেও মন্তব্য করেন দর্শন শাস্ত্রের এই অধ্যাপক।
বস্তুবাদী জ্ঞানের পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষার অভাবেই আজকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর অমানবিক নির্যাতনসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে জুলুম ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সুপারনিউমারারি প্রফেসর ড. আনিসুজ্জামান। মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন, অধ্যাপক এম এম আকাশ ও অধ্যাপক ড. কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়।
কেবি





