বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভর্তিচ্ছুদের কথা বিবেচনা করে আগামী ১৩-১৪ অক্টোবর আন্দোলন শিথিল করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। ফলে যথাসময়েই বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
শনিবার (১২ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এই ঘোষণা দেন। এর আগে বুয়েট ক্যাম্পাস ক্যাফেটেরিয়ার সামনে আন্দোলনকারীরা আলোচনা করে এমন সিদ্ধান্ত নেন।
সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা যথা সময়েই অনুষ্ঠিত হবে। আবরার হত্যার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের জন্য যে উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছিল ভর্তি পরীক্ষার কারণে সেই আন্দোলন শিথিল করা হলো।
তারা জানান, আন্দোলন চলবে। তবে ভর্তি পরীক্ষার জন্য আগামী ১৩ ও ১৪ অক্টোবর আন্দোলন শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন ভর্তিচ্ছুদের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, সম্পাদিত ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশে চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় গত ৬ অক্টোবর (রোববার) রাত ৩টার দিকে খুন হন বাংলাদেশ প্রকেৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ।
ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে শনিবার (০৫ অক্টোবর) বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার। এর জের ধরে রোববার রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন আবরার। পিটুনির সময় নিহত আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা। তবে আবরার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা।
হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ না রাখতে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে (ডিলেট) দেয় খুনিরা। তবে পুলিশের আইসিটি বিশেষজ্ঞরা তা উদ্ধারে সক্ষম হন। পুলিশ ও চিকিৎসকরা আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন।
এই ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে তার বাবা চকবাজার থানায় সোমবার রাতে একটি হত্যা মামলা করেন। বুয়েট কর্তৃপক্ষ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। পাশাপাশি গঠন করেছে একটি তদন্ত কমিটিও।
শুক্রবার (১১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আবরার হত্যাকাণ্ড যারা সংঘটিত করেছিল এদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে।
এমবি





