মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে সাংবাদিক সম্মেলনে এ দাবি জানান ১২ শিক্ষার্থীর পরিবার। তারা কোমলমতি এই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে কোমলমতি এই শিক্ষার্থীদের দ্রুত মুক্তি দিয়ে শিক্ষাঙ্গনে ফিরিয়ে দেয়ার আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
গত ২৪ মার্চ ভোররাতে পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ার একটি মেস থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীসহ মোট ১২ ছাত্রকে তুলে নিয়ে যায় কোতোয়ালী থানা পুলিশ। আটকের পর প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়। পরে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১২ ষিক্ষার্থীকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এরপর আদালতে পাঠিয়ে তাদের তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, এই শিক্ষার্থীরা দ্রব্যমূল্য ঊর্ধগতির প্রতিবাদে মিছিলে সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে আটক শিক্ষার্থী মেহেদির মা নুরজাহান বেগম বলেন, প্রকৃত পক্ষে -এসব শিক্ষার্থর কেউ মিছিল করেনি, এমনকি এধরণের কোনো তথ্যও পুলিশের কাছে নেই। শুধুমাত্র সন্দেহবশত ঘুমন্ত অবস্থায় গভীর রাতে একটি মেস থেকে তাদেরকে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় চার এপ্রিল ১১ শিক্ষার্থীকে জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। শুধু তই নয়, ওই শিক্ষার্থীদের ২০১২১ সালের ৭ সেপ্টেম্বরে যাত্রাবাড়ী থানার বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে নুরজাহান বেগম বলেন, অথচ এই সময়ে করোনাকার কারণে বিশ^বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় আমাদের সন্তানরা গ্রামের বাড়িতে ছিল। অন্যদিকে গ্রেফতার হওয়া ১২ শিক্ষার্থীর মধ্যে চারজন চলতি বছরের মার্চে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। গত ৮ মার্চ ওরিয়েন্টেশন ক্লাশে যুক্ত হতে এসব শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ জীবনে প্রথম ঢাকায় এসেছে। তাহলে এসব শিক্ষার্থীরা ঢাকায় না এসেও কিভাবে মামলার আসামি হলো?
গ্রেফতার হওয়া একাউন্টিং বিভাগের রওশনুল ফেরদৌস রিফাতের বাবা জানিয়েছেন, ২০২১ সালের ওই সময় তার ছেলে ঢাকায় ছিল না। নীলফামারিতে বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি কোচিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর চলতি বছরের ৩ মার্চ ওরিয়েন্টেশন ক্লাশে যুক্ত হতে ঢাকায় আসে। ঢাকায় না থাকলেও ২০২১ সালের যাত্রাবাড়ী থানার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। শুধু রিফাতের পরিবারই নয়, একই দাবি করেছেন গ্রেফতার হওয়া রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে সদ্য ভর্তি হওয়া আব্দুর রহমান অলির পরিবার। অলির পিতা জাহাঙ্গীর আলম একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। অলির বড় ভাই আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাদের পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। অথচ তার ভাইকে একটি সাজানো মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে নুরজাহান বেগম অভিযোগ করেন, ২০২১ সালে আমাদের সন্তানরা ঢাকায় ছিল না। তাদের মধ্যে অনেকে আছেন ঢাকায় এসেছেন জীবনে প্রথম, কেউ আছেন মাত্র ২০ দিন আগে ঢাকায় এসেছে। তাহলে কেন তাদের এক বছর আগের মামলায় আসামি করা হলো? তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার করার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের যেখানে সহানুভূতি দেখানোর কথা অথচ তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। পুলিশের মিথ্যা মামলা আমলে নিয়ে যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করে তাহলে শিক্ষার্থীরা কার কাছে যাবে?
তিনি জানান, ইতিমধ্যে আমেরিকা প্রবাসী অধ্যাপক আলী রিয়াজ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক এই বহিষ্কার আদেশের নিন্দা জানিয়েছেন এবং শিক্ষার্থীদের মুক্তি দাবি করেছেন। গ্রেফতার ১২ শিক্ষার্থীর পরিবারের জানান, আমরা দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবৈধ বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার দাবি করছি। একই সঙ্গে আমাদের সন্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে দ্রুত মুক্তি দেয়া হোক । আমরা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যাৎ এবং নিরাত্তা নিয়ে চিন্তিত।
এমআর





