ছাত্রী উত্যক্তকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে বিবাদমান দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ কলা ভবনে আরবি বিভাগের সামনে নাজমুল হাসান নামের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে ছাত্রলীগ কর্মী রেজাউল করিম রাজু। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১ম বর্ষের ছাত্র।

মারধরের শিকার নাজমুলের দাবি, ‘বান্ধবীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি আরবি বিভাগের পাশেই নিজ বিভাগের (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) ক্লাস রুমের সামনে দাঁড়িয়ে পানি খাচ্ছিলেন। এ সময় আরবী বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী রেজাউল করিম রাজু তার বান্ধবীকে উত্যক্ত করে। এর প্রতিবাদ করায় রাজু তাকে মারধর করে।’

তবে ছাত্রীকে উত্যক্তের কথা অস্বীকার করে ছাত্রলীগ কর্মী রাজু (সম্পাদক গ্রুপের) বলেন, ‘নাজমুলকে দেখে শিবির সন্দেহ হওয়ায় আমি তাকে ডাকি। এসময় সে দুর্ব্যবহার করে। এজন্য তাকে চড়-থাপ্পড় দিয়েছি।’

এদিকে এ ঘটনার জের ধরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানা গ্রুপের কর্মী অনিক মাহমুদ বনি সম্পাদক খালিদ হাসান বিপ্লব গ্রুপের কর্মী রাজুকে মারধরের হুমকি দেয়। এমনকি সভাপতি গ্রæপের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাকিম বিল্লাহ (বহিস্কৃত) ও সাংগঠনিক সম্পাদক কাউসার আহমেদ কৌশিকের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্ত¡রে অবস্থান নেয়।

একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক খালিদ হাসান বিপ্লবের নেতৃত্বে ১০/১৫ জন নেতাকর্মী তাদের পাশেই অবস্থান নেয়।

এসময় উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ঘটনাস্থলে এসে সমঝোতার চেষ্টা করলেও বিষয়টি অমীমাংসিত থেকে যায়। এ ঘটনার জেরে বিবাদমান দু‘গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক খালিদ হাসান বিপ্লব বলেন, ‘ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করতে উঠে পড়ে লেগেছে। ছাত্রলীগকর্মী রাজুকে মারার চেষ্টা করছে।’ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় কিছু নেতাকর্মী উশৃঙ্খল হয়ে উঠেছে বলেও জানান তিনি।

এসএইচ