অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো সংক্রান্ত প্রকাশিত গেজেটে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবিসমূহের প্রতিফলন ঘটেনি বলে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন। এর প্রেক্ষিতে পুনরায় কর্মসূচি ঘোষণা করেছে শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন।
মঙ্গলবার সংগঠনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, আগামী ২৭ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে সংবাদ সম্মেলন, ২ জানুয়ারির পূর্বেই সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ এবং ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব ভবনে ফেডারেশনের ডাকে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধিদের সম্মিলনে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এবং মহাসচিব অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ সকালে ফেডারেশনের কার্যকর পরিষদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্যে জাতীয় বেতন কাঠামো সংক্রান্ত প্রকাশিত গেজেট এবং অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব কর্তৃক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত কিছু সুপারিশ সমন্বিত একটি পত্রের ওপরে বিশদ আলোচনা হয়।
আরো বলা হয়, এগুলো পর্যালোচনায় দেখা যায়, বর্তমান অবস্থায় অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে সপ্তম জাতীয় বেতন কাঠামোর তুলনায় গ্রেড-১ প্রাপ্ত শিক্ষকদের সংখ্যা অর্ধেক কিংবা তারও নিচে নেমে আসবে। উপরন্তু, গ্রেড-১ প্রাপ্ত শিক্ষকদের থেকে সুপারগ্রেডের ২য় ধাপে যাওয়ার কোনোও সুযোগ ও নির্দেশনা এই গেজেটে কিংবা অন্য কোনো পরিপত্রে এ পর্যন্ত পরিলক্ষিত হয়নি।
জাতীয় অধ্যাপকদেরকে এর মাধ্যমে অপমান করা হয়েছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় অধ্যাপকদের সিনিয়র সচিবদের পর্যায় এনে এই বরেণ্য ব্যক্তিদের যেমন অপমান করা হয়েছে, অন্যদিকে তাঁদের পে-রুলে আনার এই প্রচেষ্টার মধ্যদিয়ে জাতীয় বেতন কাঠামোকে করা হয়েছে বিতর্কিত। জাতীয় অধ্যাপকদের বিশ্ববিদ্যালয় মনোনয়ন দেয়না বা তাঁরা সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদানের সাথেও যুক্ত নয়। দেশে ৫জন জাতীয় অধ্যাপক আছেন, তাঁরা সকলের ওপরে দেশ-বরেণ্য ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব।
তাঁদের এই বেতন কাঠামোতে অন্তর্ভুক্তি অনাকাঙ্খিত ও জাতির জন্য লজ্জাজনক। আরো উল্লেখ করা হয়, গত ৬ ডিসেম্বর অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বাসভবনে শিক্ষক প্রতিনিধিদের এক সাক্ষাতের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের দাবিসমূহ পূরণের সুষ্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রকাশিত গেজেটে তার প্রতিফলন না ঘটায় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
এমএইচ





