আমরা এক সাথে ঘুরতে এসেছিলাম। কথা ছিল যতো সমস্যাই হোক এক সাথেই ফিরবো। কিন্তু হঠাৎ কয়েকজন বন্ধু সাগরে হারিয়ে গেল। বন্ধুরা কেমন আছে জানি না। এখন বাধ্য হয়েই নিখোঁজ বন্ধুদের ছাড়াই ফিরতে হচ্ছে। জীবনের এর চেয়ে বড় আঘাত আর হয় না।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397570140.jpg[/img]
কথা গুলো বলছিলেন আহসান উল্লাহ ইউনির্ভাসিটির কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র মাইনুল হাসান শুভ্র।
মঙ্গলবার দুপুরে মোবাইলে ফোনে কথা হয় তার সাথে। শুভ্র জানান, এক সাথে এসে ২ বন্ধুরে চিরতরে হারিয়েছি। ৪ বন্ধুর খবর এখনো জানি না কেমন আছে তারা। বেঁচে আছে না মারা গেছে। বন্ধুদের লাগেজ নিয়ে ফিরছি, কিন্তু বন্ধু নেই। কোনো শান্তনাই মন মানছে না। আর কখনো ঘোরা হবে না।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397570239.jpg[/img]
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের সদস্যরা আমাদের ফিরে আসতে বলছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের সাথে না নিয়ে ফিরবো না। লাশ হোক জীবন্ত হোক। কিন্তু বিভাগের শিক্ষকরা সেন্টমার্টিনে এসে আমাদের অনুরোধ করায় বাকি সবাই ঢাকায় ফিরছি।
এর আগে শুভ্রের সাথে যোগাযোগের জন্য মা মাজেদা আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কেঁদে বলেন, ছেলে খুব করে ধরেছিল বন্ধুদের সাথে সেন্টমার্টিন বেড়াতে যাবে। কিন্তু কে জানতো এমন হবে। কোনো মায়েই চায় না তার ছেলে মারা যাক। ছেলে হারানোর ব্যথা যে কি? যারা হারিয়েছে তারাই বোঝে।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397570275.jpg[/img]
তিনি বলেনম আল্লাহর কাছে কান্না কাটি করছি। যেসব ছাত্র নিখোঁজ হয়েছেন তারা যেন জীবন্ত ফিরে আসে।
গত সোমবার বাংলা নতুন বছর উদযাপনে আহসান উল্লাহ ইউনির্ভাসিটির কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের ৩৪ বন্ধু এক সঙ্গে সেন্টমার্টিন ঘুরতে যান।
সেন্টমার্টিন দ্বীপে বেড়াতে গিয়ে গোসলে নেমে ৯ ছাত্র ভেসে গেলে কোস্টগার্ড ও স্থানীয়রা ৫ জনকে উদ্ধার করে। এদের মধ্যে ২ জন মারা যায়। বাকি ৪ জন এখনও নিখোঁজ।
ছাত্র নিখোঁজের ঘটনায় আহছানিয়া মিশনের সহকারী পরিচালক আবদুর রাজ্জাকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষক সেন্টমার্টিন গেছেন।
আহসান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইউনির্ভাসিটির কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক, প্রফেসর ড. এসএম আব্দুল্লাহ আল মামুন টাইমনিউজবিডিকে জানান, বিভাগের ছাত্র নিখোঁজের খবর পেয়ে আমরা সোমবার দিবাগত রাতেই সেন্টমার্টিন অভিমুখে রওয়ানা হই। দুপুরে পৌছে সবার সাথে সাক্ষাত করে বাসে উঠেছি। রাত ৯টার মধ্যে ঢাকা পৌছবো।
তিনি আরও বলেন আমরা আশা করছি, 'স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় নিঁখোজ শিক্ষার্থীদের সন্ধান পাব।'
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397570314.jpg[/img]
এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে আহসান উল্লাহ ইউনির্ভাসিটির উপাচার্য প্রফেসর এ এমএম সাইফুল্লাহ টাইমনিউজবিডিকে বলেন, এ মূহুর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিভাগের ক্লাশ পরীক্ষা নেই। ২৬ এপ্রিল থেকে আবার ক্লাশ পরীক্ষা শুরু হবে। এই সুযোগে ব্যক্তি উদ্যোগে ৩৪ শিক্ষার্থী সেন্টমার্টিনে বেড়াতে যায়।
আমরা কক্সবাজার সেন্টমার্টিন প্রশাসনের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। নিখোঁজ ৪ শিক্ষার্থীকে জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় যেন ফিরিয়ে আনা যায়।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের সন্ধানের ব্যাপারে কোস্টগার্ড সদর দপ্তরের অফিসার মো. কামরুজ্জামান জানান, নৌবাহিনীর নেতৃত্বে অনুসন্ধান কাজ চলছে। সবোর্চ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে, শেষ মূহুর্তেও যেন জীবিত অবস্থায় সবাইকে উদ্ধার করা যায়।
[b]ঢাকা, জেইউ, ১৫ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসআর [/b]
শিক্ষা
বন্ধুরা কেমন আছিস জানি না?
আমরা এক সাথে ঘুরতে এসেছিলাম। কথা ছিল যতো সমস্যাই হোক এক সাথেই ফিরবো। কিন্তু হঠাৎ কয়েকজন বন্ধু সাগরে হারিয়ে গেল। বন্ধুরা কেমন আছে জানি না। এখন বাধ্য হয়েই নিখোঁজ বন্ধুদের ছাড়াই ফিরতে হচ্ছে। জীবনের এর চেয়ে বড় আঘাত আর হয় না।





