ভিকারুন্নেছা নুন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মন্জু আরা বেগম বলেছেন, 'বর্তমান পদ্ধতিতে আমরা প্রথম হতে পারছি না। কারণ পাঁচশত শিক্ষার্থীকে বিবেচনায় এনে ফলাফলসহ সার্বিক পড়াশুার মান বিবেচনা করা যায় না। এজন্য দেখা গেছে গ্রামের একটি কলেজ বোর্ডের তালিকায় প্রথম/দ্বিতীয় হচ্ছে, আবার শহরের একটি ভাল কলেজ তার ধারে কাছেও স্থান পাচ্ছে না। যদিও শতভাগ পাশ করেছে কিন্তু এই ফলাফলে আমি সন্তুষ্ট নই। সার্বিক বিবেচনায় আমি খুশি নই।'

তিনি জানান, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে তাদের কলেজ শাখা এবার পঞ্চম স্থান অধিকার করেছে। গতবার ছিলো তৃতীয় স্থানে। এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৩৪২ জন কিন্তু সবশেষ দু'জন ছাত্রী পরীক্ষা দিতে পারেনি।

বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষার্থী ছিলো ৮৪৮ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে-৭৭৫ জন। মানবিক বিভাগে পরীক্ষার্থী ছিলো ১৯৩জন জিপিএ ৫ পেয়েছে-৭৪ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পরীক্ষার্থী ছিলো ৩০১ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে-১৮৮ জন।

কয়েক শিক্ষার্থী পরীক্ষা না দিয়ে বিদেশ চলে যাবার কারণে আমাদের প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জিত হয়নি। নতুবা শীর্ষ তালিকায় আমাদের নাম দেখা যেত।

প্রশ্ন ফাসেঁর কারণে শিক্ষার্থীদের ফলাফল বিঘ্ন হয়েছে। যার কারণে শিক্ষার্থীরা কাঙ্খিত ফলাফল করতে পারেনি। তবে যারা ভাল শিক্ষার্থী তারা সবসময় ভাল করছে।

তাহানিয়া নওয়াব ঐশী মাকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল ভিকারুন্নেছার ১ নং গেটে। তার মা বলেন, 'আমি একজন ব্যাংকার আর ওর বাবা ডাক্তার। আমরা দুজন চাকুরি করি। আমাদের একমাত্র মেয়ে ঐশী। রাত দেরটায়ও আমি ওর জন্য নাস্তা তৈরী করে দিয়েছি। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী হওয়া সত্বেও তাকে আমরা কখনও কোচিং করাইনি। আমরা তার জন্য খুবই পরিশ্রম করেছি।'

প্রশ্নপত্র ফাসেঁর ব্যাপারে তিনি বলেন, 'ছাত্রের মেধা ভাল (বেসিক) থাকলে প্রশ্ন ফাঁসে কোন কিছুই হয় না। প্রশ্ন পত্রের তো বিকল্প আরও তিনটি সেট থাকে একটি ফাঁস হলে অন্য সেটে যথা সময়ে পরীক্ষা নেয়া উচিত, তখন ছাত্র-ছাত্রীদের ও অভিভাবকদের টেনশন করতে হয় না। আশা করছি আমার মেয়ে ভাল রেজাল্ট করবে।'

ছাত্রী ঐশীর মতে, অবশ্যই প্রশ্ন ফাঁসের কারণে আমি বিভ্রান্ত হয়েছি। ভয় তো অবশ্যই ছিল। পরীক্ষা পেছানোর কারণে আমার সমস্যা হয়েছে।

পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায় সে জিপিএ-৫ পেয়েছে। ভবিষ্যতে সে বৈমানিক হতে চায়।

ঢাকা, কেএ, ১৩ আগষ্ট, টাইমনিউজবিডি.কম,জেএ