মালদ্বীপের নাগরিক ও মডেল এবং রাজশাহী নগরীর নওদাপাড়ায় অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী রাউধা আতিফের (২১) মৃত্যু রহস্য এখনো উদঘাটিত হয়নি।

পুলিশ ও কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, রাউধা আতিফ আত্মহত্যা করেছেন। তবে তার আত্মহত্যার বা মৃত্যুর কারণ কী সে সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য উদঘাটিত হয়নি।

মহানগর পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল বুধবার দুপুরের দিকে কলেজের ছাত্রী হোস্টেল থেকে রাউধা আথিফের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার বাবার নাম মোহাম্মদ আতিফ ও মায়ের নাম আমিনা মহাসিমাত। তার বাড়ি মালদ্বীপের মেল এ। রাউধা ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজের ১৩তম ব্যাচের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। রাউধার বাবা পেশায় চিকিৎসক। তার মা মানবসম্পদ কর্মকর্তা। রাউধা সেদেশের হিরিয়া স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ভিল্লা ইন্টারন্যাশনাল হাইস্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন।

এদিকে, পুলিশ ও কলেজ সূত্র জানায়, রাউধার লাশ নিতে পরিবারের সদস্যরা আজ বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে এসে পৌঁছেছেন। বিমানযোগে বিকেল চারটা নাগাদ তারা রাজশাহী এসে পৌঁছান। এরপর তারা ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেন। তারা রাউধার আত্মহত্যার বিষয়ে জানতে চান। পরে সেখান থেকে তারা নগরীর পর্যটন মোটেলে গিয়ে কিছু সময়ের জন্য বিশ্রাম নেবেন। তবে পরিবারের আরো কয়েকজন সদস্য ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তারা রাজশাহী এসে পৌঁছলে সবাই একসাথে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের (রামেক) হাসপাতালের মর্গে যাবেন। মা, ভাইসহ স্বজনেররা মর্গে রাখা রাউধা আতিফের লাশ দেখবেন। এরপর তারা সিদ্ধান্ত নেবেন রাউধার লাশের ময়নাতদন্ত করা হবে কি-না।

সূত্রটি আরো জানায়, রাউধার লাশ মালদ্বীপে নিতে রাজশাহীতে এসেছেন তার মা আমিনা মহাসিমাত, তার ভাই ও মালদ্বীপ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আর তারা বাবা মোহাম্মদ আতিফ ঢাকা থেকে মাইক্রোযোগে রাজশাহীর উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছেন।

কলেজ হোস্টেল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে নগরীর শাহমখদুম থানার ওসি জিল্লুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, রাউধা ছাত্রী হোস্টেলের দ্বিতীয় তলার ২০৯ নম্বর রুমে থাকতেন। সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলতে দেখে দরজা ভেঙে সহপাঠিদের সহযোগিতায় হোস্টেল কর্তৃপক্ষ তাকে নিচে নামান। এসময় চিকিৎসকেরা সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ তাদের হেফাজতে নেয়।

ওসি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাউধা আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ছাড়া তার মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তাছাড়া তিনি যদি আত্মহত্যা করে থাকেন, তবে কী কারণে করেছেন সে বিষয়টি পুলিশ অনুসন্ধান করে দেখছে। তার মৃত্যুর ব্যাপারে অন্য কারণ ঘটনার যোগসূত্র আছে কি-না তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

রাউধার আত্মহত্যার ঘটনায় বুধবার রাতেই ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। হাসপাতালের সচিব আব্দুল আজিজ রিয়াজ বাদী হয়ে মামলাটি করেন বলে সাংবাদিকদের জানান ওসি জিল্লুর রহমান।

হোস্টেলের ইনচার্জ লাইলা আক্তার সাংবাদিকদের জানান, বিদেশী কোটার ছাত্রী ছিলেন রাউধা আতিফ। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সহপাঠিরা রাউধাকে ডাকতে যান। এসময় তারা কক্ষের দরজার কাছে গিয়ে ডাকাডাকি করলেও রাউধা কোনো সাড়া দেননি। এক পর্যায়ে তারা জানালা দিয়ে দেখতে পান রাউধা কক্ষের ভেতরে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলে আছেন। এরপর দ্রুত দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করা হয়। রাউধা ২০১৬ সালের ১৪ জানুয়ারি ওই রুমে উঠেন।

সূত্র জানায়, রাউধা আতিফ একজন মডেলও ছিলেন। ‘ভোগ’নামের একটি ম্যাগাজিনে তার কয়েকটি ছবি প্রকাশ হয় গত বছর। তবে রাউধা চেয়েছিলেন তিনি চিকিৎসক হবেন। তাই সবকিছু ছেড়ে তিনি চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলেন রাজশাহী নগরীর নওদাপাড়াস্থা ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজে। তবে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণের আগেই আত্মহত্যা করলেন। ফলে তার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল।

গত বছর ভোগ ম্যাগাজিনে রাউধার ছবি প্রকাশ হওয়ার পাশাপাশি তার মনের ইচ্ছেগুলোও প্রকাশিত হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, রাউধার ইচ্ছা চিকিৎসক হওয়া। তিনি মালদ্বীপে জন্মগ্রহণ করতে পেরে গর্ববোধ করেন। সেখানে দেয়া সাক্ষাৎকারে রাউধা বলেছিলেন, ‘মডেলিং আমার কাছে পেশা নয়, শখ। পড়াশোনা শেষ করে চিকিৎসক হয়ে মানুষকে সাহায্য করা আমার কাছে সব সময়ের জন্য স্বপ্ন।’

সূত্রটি আরো জানায়, ‘ভোগ’এর ২০১৬ সালের অক্টোবর সংখ্যার প্রচ্ছদের মডেল হয়েছিলেন রাউধা।

এমই