খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি পদটি এক বছর ধরে শূন্য রয়েছে। এই পদকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দ্বিধাবিভক্ত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা।
এই বিভক্তির ধারাবাহিকতায় বর্তমানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্তি বিরাজ করছে। প্রশাসনিক ৩৩টি পদ থেকে ৩১ শিক্ষকের গণপদত্যাগে সৃষ্টি হচ্ছে প্রশাসনিক বিশৃংখলা।
যা নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে হতাশ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। এ অবস্থায় বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকরা কৌশলী অবস্থানে। তবে, আওয়ামীপন্থী একটি গ্রুপের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের গভীর যোগাযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশৃংখল পরিস্থিতি সৃষ্টির পরিকল্পনা অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষার দিন অনেকটা পিছিয়ে দেয় এই সমন্বিত চক্রটি।
অরাজনৈতিক হওয়ার কারণে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিয়ে থাকে। কিন্তু এই ব্যানারে থাকা বর্তমান ছাত্রবিষয়ক পরিচালক ড. অনির্বাণ মোস্তফার নেতৃত্বে একটি পক্ষ এবং ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজির প্রধান প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে অপর গ্রুপটি সক্রিয় রয়েছে। মাহমুদ গ্রুপ খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সংসদ সদস্য তালুকদার আবদুল খালেকের নির্দেশনা এবং অনির্বাণ মোস্তফা গ্রুপ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য এসএম মোস্তফা রশিদী সুজার নির্দেশনা অনুসরণ করে থাকেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, অনির্বাণ মোস্তফা গ্রুপ থেকে খানবাহাদুর আহসানউল্লাহ হলের প্রোভোস্ট কাজী শাহনেওয়াজ রিপন এবং মাহমুদ গ্রুপ থেকে প্রফেসর মো. মোস্তফা সরোয়ার প্রো-ভিসি পদের জন্য আগ্রহী। এই পদকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বিশৃংখলাবস্থা হলে চাপে পড়বেন বর্তমান ভিসি। সেক্ষেত্রে পথ তৈরি হলে ভিসি হওয়ার ভাবনায় থাকছেন ২ জন। এদের মধ্যে অনির্বাণ মোস্তফা গ্রুপ থেকে কলা ও মানবিক স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. আহমেদ আহসানুজ্জামান ও মাহমুদ হোসেন গ্রুপ প্রধান নিজেই ওই পদ নিয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভিন্ন পদে অনির্বাণ মোস্তফা পক্ষের শিক্ষকরা অধিকাংশ পদেই রয়েছেন।
এই গ্রুপগুলো নিজ নিজ অবস্থান থেকেই বর্তমান ভিসির বিরুদ্ধে কৌশলগতভাবে অবস্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্তি সৃষ্টিতে তৎপরতা চালাচ্ছে। এদের মধ্যে অনির্বাণ মোস্তফার নেতৃত্বের পক্ষটি বেশি তৎপর। ইতোপূর্বে ভর্তি কমিটির সভায় পক্ষটি কৌশল নিয়ে ভর্তি পরীক্ষার জন্য ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ দিন নির্ধারণ করে সময়কে দীর্ঘ করে। যেখানে ভর্তি পরীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ ছিল বৈঠকে উপস্থিত অন্য শিক্ষকদের। ওই বৈঠক শেষে পক্ষটির কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষক বিএনপি-জামায়াতপন্থীদের সঙ্গে একটি বৈঠকও করে। সেখানে তারা এই সময়ের মধ্যে বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে বলে বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের আশ্বস্ত করে এবং সে সময়ে তাদের সহযোগিতা কামনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় সিন্ডিকেট বৈঠকের আলোচনা-সমালোচনাকে কেন্দ্র করে ৩১ শিক্ষক প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগ করে সংকাটাবস্থা সৃষ্টি করেছে।
এ অবস্থাকে ধরে রেখে আন্দোলন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতিকে আরও অশান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে পক্ষটির গুটি কয়েক সিনিয়র শিক্ষকের। আর ওই শিক্ষকদের কাঠির নাচনিতে নাচছেন শিক্ষকদের একটি বড় অংশ।
[b]খুবি কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা:[/b] খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩১ শিক্ষকের পদত্যাগ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন।
তাতে বলা হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে গত ১৮ জানুয়ারি একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় একজন ডিসিপ্লিন প্রধানের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কয়েকজন শিক্ষক ক্ষুব্ধ হন। ভিসি সামগ্রিক ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা সত্তে¡ও কয়েকজন শিক্ষক ওই বিভাগীয় প্রধানের অপসারণ দাবি করেন। ভিসি এ ব্যাপারে শিক্ষকদের কাছে কিছুটা সময় চাইলেও তারা পদত্যাগপত্র জমা দেন।
তবে এতে কেউই ভিসির পদত্যাগ চাননি বা দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করেননি। খুব দ্রুতই বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে বলে কর্তৃপক্ষ আশা করছে।
[b]খুবি, ২৫ জানুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম)//ইএইচ/এফএ[/b]





