নিজেদের অপকর্মকে আড়াল করতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির কর্মীদের উপর ছাত্রলীগের রাতভর হামলা, সাধারন ছাত্রদেরকে হল থেকে বিতাড়ণ, গ্রেপ্তার ও পুলিশ কর্মকর্তার অস্ত্র উদ্বার নাটকের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

এক যৌথ প্রতিবাদ বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত ও সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইন বলেন, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে আড়াল করার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মেহেদি হাসানের মত কিছু নীতিহীন বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা।

গত কয়েকদিন ধরে ছাত্রলীগের অব্যাহত সন্ত্রাসের ধারাবাহিকতায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে গতকাল কয়েক দফায় ছাত্রলীগ সাধারন ছাত্রদের নির্যাতন করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। ছাত্রলীগের তুলে দেওয়া সাধারন ছাত্রদেরকে গ্রেফতার করে পুলিশ তাদের জড়িয়ে ককটেল নাটককে মঞ্চায়ন করে। যা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও পরিকল্পিত।

যৌথ প্রতিবাদে তারা আরও বলেন এসব অস্ত্র উদ্ধার নাটকের পুলিশের সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকলেও ছাত্রশিবিরের দূরতম কোন সম্পর্ক নেই।

মূলত বেশ কয়েকদিন যাবত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগীতায় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা বহু নিরপরাধ বৈধ ছাত্রকে নির্যাতন করে হল থেকে বের করে দিয়েছে। সেখানে তারা অবৈধ ও সন্ত্রাসীদের উঠিয়েছে। এসব কর্মকান্ড পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সামনেই হচ্ছে।

গতকালও হলে হামলা করে, নিরপরাধ ছাত্রদের সারা রাত নির্যাতন করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় ছাত্রলীগ। কিন্তু ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের এসব বেআইনি কর্মকাণ্ডকে আড়াল করতে এবং অবৈধদের হলে স্থান করে দিতে বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদি হাসান সুপরিকল্পিত ভাবে এই অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজিয়েছেন।

প্রতিবাদে তারা পুলিশ সুপার মেহেদি হাসানের বলতে গিয়ে তারা বলেন, পুলিশের এই কর্মকর্তা এর আগেও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নজিরবিহীন তান্ডবের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, বিএনপির মহাসচিবসহ চারদলীয় জোটের বহু নেতাদেরকে নির্যাতন ও বাজে আচরণ করেছিলেন, রিমান্ডে ভয়াবহ নির্যাতন করে আরো অনেক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

তারই ধারাবাহিতায় গতকাল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ককটেল রেখে নাটক সাজিয়ে নিজেকে আবারো বিতর্কিত করেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা । মেহেদি হাসানের মত পুলিশ কর্মকর্তাদের এমন দায়িত্বহীন ও অমানবিক আচরণে দেশবাসী হতভাগ। নিরীহ ছাত্রদের উপর অন্যায় আচরণে সহযোগির ভূমিকা পালন ও নিকৃষ্ট অস্ত্র উদ্ধার নাটক সুগভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে সচেতন দেশবাসী মনে করে।
জেড