বুধবার (২৯ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
উদ্যোক্তাদের বড় প্রতিশ্রুতি শিক্ষামন্ত্রী জানান, তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থীর জন্য ড্রেস, ব্যাগ ও জুতা সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সরকারের এই মহৎ উদ্যোগে দেশের বড় বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে।
উপস্থিত ছিলেন যারা উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পাইলট প্রকল্প থেকে দেশজুড়ে বিস্তৃতি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, অনেক উদ্যোক্তা তাদের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (CSR) অংশ হিসেবে এই কর্মসূচিতে যুক্ত হতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। চলতি বছরে এটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হলেও আগামী অর্থবছর থেকে সারা দেশে বড় পরিসরে এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও জানান, দেশজুড়ে অভিন্নতা বজায় রাখতে ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ডিজাইনের একরঙা পোশাক, ব্যাগ ও জুতা দেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের খরচ কমবে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে বই এবং মিড-ডে মিলের সুবিধা পাচ্ছে। নতুন এই কর্মসূচি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের পোশাক ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচও পরিবারকে বহন করতে হবে না।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ বৈঠকে বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠান এই কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে। তিনি আরও জানান, স্কুলব্যাগ ও জুতা সরবরাহের পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্কুলগুলোর যাতায়াত সহজ করতে বৈদ্যুতিক বাস দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।
উল্লেখ্য যে, অতি শীঘ্রই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬০ হাজার নতুন শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হতে যাচ্ছে, যা দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এমএম