২০১৫ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও ইবতেদায়ী সমাপনী এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও সমমানের জুনিয়র দাখিল পরীক্ষার (জেডিসি) ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

এবার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে পাসের হার ৯৮ দশমিক ৫২ ও ইবতেদায়ি সমাপনীতে পাসের হার ৯৫ দশমিক ১৩ শতাংশ।

রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘুরে দেখা যায়, পরীক্ষার্থীরা তাদের ফলাফলের জন্য বিদ্যালয়ে আসার চেয়ে হাতের কাছের মূল্যবান ফোনটিতে সময় দিচ্ছে বেশী। কারণ হিসেবে সরকারী ল্যাবরেটরি স্কুলের পিএসসির শিক্ষার্থী রাসেলের পিতা জয়নাল আবেদিন জানান এখন আর আগের মত ফলাফলের জন্য বিদ্যালয়ের নোটিস বোর্ডের দিখে তাকিয়ে থাকতে হয় না। শিক্ষার্থীরা তাদের মোবাইল থেকেই এসএমএস করে ফলাফল পেয়ে যাচ্ছে।

উইলস নিটল ফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজের সামনে দেখা যায়, কয়েক শত ছাত্র-ছাত্রী ও অভিবাবক তাদের নিজের বা কারো ছোট ভাই আবার কারো বা নিজ সন্তানের ফলাফলের প্রতীক্ষা করছেন।

সবার মাঝে এক অজানা উৎকণ্ঠা। না জানি কি হয়। ফলাফলটি কাঙ্কিত হবে তো?

মাঠের এক পাশে নিরিবিলি স্থানে আরিফুল ও তার আব্বা সাথে আরো তিন চারজন। আরিফুলের হাতে স্মার্ট ফোন। তাতে ছাত্র আইডি লিখছে আর বারবার নির্দিষ্ট একটি নাম্বারে পাঠাচ্ছে। কিন্ত কাজ হচ্ছে না। এভাবে কয়েকবার চেষ্টার পর ইমনের ফলাফল আসল জিপিএ-৫ । বাকিদের উৎকণ্ঠা আরো বেড়ে গেল। এভাবে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে বাকি তিনজনের ফলাফল আসল জিপিএ-৫ আর একজনের জিপিএ ৪.৫০।

তখনও বিদ্যালয়ের ফলাফল আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ হয়নি। দেখতে না দেখতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হোসাইন তার সহকর্মীদের সাথে নিয়ে বিদ্যালয় আঙ্গিনাতে আসতেই বাদকদল দ্রাম দ্রাম আওয়াজ তুলে সবাইকে তাদের বিজয় বার্তা জানিয়ে দিল।

প্রধান শিক্ষক আবুল হোসাইন সবার উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের কলেজের অন্যান্য বছরের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে এক অনন্য গৌরব অর্জন করেছে। এই অর্জনের জন্য আমি সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আবুল হোসাইন বলেন, আমাদের আজকের এই সফলতার অংশীদার শিক্ষক অভিবাবক সবাই।

স্কুল বিভাগের জেএসসিতে ৫২৫ জনের ২৩৪ জন জিপিএ-৫ আর পিইসিতে ৭৩০ জনের ৪৬৯ জন জিপিএ-৫ পেয়ে শতভাগ পাশ করেছে।

আবুল হোসেন উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করে কলেজের সফলতা ধরে রাখতে সকলের সহযোগীতা কামনা করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে কলেজের অধক্ষ্য আবুল হোসাইন টাইমনিউজকে জানান, বছরের শুরু থেকে আমরা ভাল করার একটা প্লান নিয়ে পাঠক্রম সাজাই। পাশাপাশি অভিবাবকদের ভূমিকা ও থাকে অনেক বেশী। ক্লাসের পড়া ক্লাসেই আদায় করে নেয়ার একটা বিশেষ চেষ্টা থাকে। সর্বোপরি অভিবাবক-শিক্ষক সমন্বয়ে আমরা আমাদের ছাত্রদের নিয়ে একটা কাঙ্কিত ফলাফল অর্জনের চেষ্টাই আমাদের আজকের সাফল্যের মূল চাবিকাটি।