রাজধানীতে ট্রাফিক সপ্তাহের মধ্যেই বাসচাপায় ঝরে গেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর প্রাণ।
বাংলাদেশ ইউনির্ভাসিটি অব প্রফেশনালস্ (বিউপি)’র আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরী সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বেপরোয়া বাসের কবলে বলি হয়েছেন।
নিহত আবরার ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ দাবিতে সোচ্চার ছিলেন। অথচ ভাগ্যের নির্মম পরিহাস সড়কেই ঝরে গেল আবরারের প্রাণ।
আর এই ঘটনার জেরে সড়কে বিক্ষোভ করছে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা ঘাতক বাসের চালকের সর্বোচ্চ শাস্তিসহ ৮ দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন।
আজ (১৯ মার্চ) মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে কুড়িল বিশ্বরোডে রাস্তা পার হতে গিয়ে দু’টি বাসের মধ্যে পিষ্ট হন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ছাত্র আবরার আহমেদ। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।
‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনে সমর্থন থাকার বিষয়টি জানা যায় আবরারের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে। অথচ তার প্রাণ গেল সড়কেই।

আবরারের ফেসবুক প্রোফাইলে ঢুকে দেয়া গেছে, রাজধানীতে নিরাপদ সড়ক দাবিতে গড়ে উঠা আন্দোলন চলাকালে আববার সেই আন্দোলনে সমর্থন দেন। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক ওই আন্দোলনে প্রতি একাত্বতা প্রকাশ করে তিনি ফেসবুকে প্রোফাইলে ছবি দেন। ছবির নিচে লেখা ‘নিরাপদ সড়ক চাই’স্টিকার দেয়া।
গেল বছরের ২ আগস্ট ছবিটি পোস্ট করেন আবরার। ওই সময় নিরাপদ সড়ক দাবিতে গড়ে উঠা আন্দোলনে উত্তাল ছিল সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
২০১৮-র নিরাপদ সড়ক আন্দোলন বাংলাদেশে কার্যকর সড়ক নিরাপত্তার দাবিতে ২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট ২০১৮ পর্যন্ত সংঘটিত একটি আন্দোলন বা গণবিক্ষোভ।
জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের একটি বাস শিক্ষার্থীদের নিতে ওই এলাকায় আসে। বসুন্ধরা নিবাসী আবরার রাস্তার একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলে নিহত আবরারের বাবাও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তিনি তার ছেলেকে বাঁচাতে পারেননি। রাস্তার একপ্রান্তে দাঁড়িয়েছিলেন বাবা আর আবরার রাস্তা পার হয়ে আরেক প্রান্তে গিয়ে বাসে উঠতে যাচ্ছিল। এই ঘটনার পরপরই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার মূল প্রবেশপথের সামনে রাস্তা অবরোধ করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করলেও শিক্ষার্থীরা রাস্তা থেকে সরে আসবে না বলে জানায়।
শিক্ষার্থীরা এসময় মিডিয়ার সামনে ৮ দাবি জানান।
দাবিগুলো হলো:
১. পরিবহন সেক্টরকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে। প্রতিমাসে বাস চালকের লাইসেন্সসহ সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেক করতে হবে।
২. আটক চালক ও সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
৩. আজ থেকে ফিটনেস বিহীন ও লাইসেন্স বিহীন চালককে দ্রুত অপসারণ করতে হবে।
৪. ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় সব স্থানে আন্ডার পাস, স্পিড ব্রেকার ও ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে।
৫. সড়ক হত্যার সাথে জড়িত সবাইকে সর্বোচ আইনের আওতায় আনতে হবে।
৬. প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি চলাচল বন্ধ করে নির্দিষ্ট স্থান বাসস্টপ ও যাত্রী ছাউনী করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
৭. ছাত্রদের হাফ পাস বা আলাদা বাস চালু করতে হবে।
৮. দায়িত্বে অবহেলাকারী প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশকে স্থায়ী অপসারণ।
এদিকে, রাস্তায় শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে রামপুরা, বাড্ডা, কুড়িল, বিশ্বরোডসহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে।
এমবি





