অর্থমন্ত্রীর ভ্যাট প্রত্যাহার না-করার ঘোষণা ‘মানি না’ বলে জানিয়েছে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনরত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
একই সঙ্গে এনবিআর’র বক্তব্যকে আন্দোলন থামানোর ‘অপকৌশল’ বলে অভিহিত করে শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যেভাবেই হোক ভ্যাটের অর্থ তাদের কাছ থেকে আদায় করবে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে গত বুধবার থেকে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। ওইদিন রাজধানীর রামপুরার প্রধান সড়ক অবরোধ করেন তারা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। বৃহস্পতিবারও রাজধানীর কয়েকটি স্থানে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করছে তারা।
২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে- বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি’র ওপর ভ্যাট পরিশোধ করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের, শিক্ষার্থীদের নয়। বিদ্যমান টিউশন ফি’র মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় টিউশন ফি বাড়বে না।
ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘নো ভ্যাট অন এডুকেশন’-এর মুখপাত্র ফারুক আহমাদ আরিফ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভ্যাট দেওয়া মানে, আমরাই দেওয়া। কারণ কর্তৃপক্ষ অন্যভাবে আমাদের কাছ থেকে সেটা আদায় করবে। এটা (এনবিআর’র ঘোষণা) আন্দোলন থামানোর একটা অপকৌশল।’
তিনি বলেন, ‘অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা আমার মানি না। বিশ্ববিদ্যালয় তো লাভজনক প্রতিষ্ঠান নয়, তারা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান থেকে কেন ভ্যাট নেবে। আমরা কোনোভাবেই ভ্যাট দেব না।’
সিলেটে এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘যে ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে, তা প্রত্যাহার করা হবে না।’ তিনি এই ভ্যাটকে ‘রাজস্ব সংগ্রহের অন্যতম উৎস’ বলে মন্তব্য করেন।
শিক্ষার ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার ও আন্দোলনরত ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবারও রাজধানীর কয়েকটি স্থানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। ‘নো ভ্যাট অন এডুকেশন’ ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ করছে তারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে বলে জানান ফারুক আহমাদ আরিফ।
তিনি বলেন, ‘আজ (বৃহস্পতিবার) রাত কয়টা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে তা বলতে পারছি না। তবে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে রাজধানীরসহ সারাদেশে বিক্ষোভ, সমাবেশ এবং অবস্থান কর্মসূচি চলবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই আমরা ঘরে ফিরব না।’
বৃহস্পতিবার রাজধানীর কয়েকটি স্থানে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করছেন। সকাল ১০টায় আফতাবনগরে রামপুরা ব্রিজের কাছে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির সামনে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বেলা ১১টায় উত্তরায় অবস্থিত ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হাউজ বিল্ডিং মোড় ও বসুন্ধরায় অবস্থিত ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বসুন্ধরা আবাসিক গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।
দুপুর ১২টা থেকে ধানমন্ডির ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে, বনানীতে অবস্থিত ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন।
জেআই
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বিক্ষোভ সমাবেশের ফলে অনেকগুলো রাস্তা বন্ধ থাকায় রাজধানীজুড়ে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে।
রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী মোড়ে, সাভারের তিনটি বেসরকারি মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, রাজশাহী এবং সিলেটেও বিক্ষোভ সমাবেশ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।





