ভর্তিতে পোষ্যদের জন্য শর্ত শিথিলের দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের কর্মবিরতির প্রতিবাদে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা।

বুধবার সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রায় দেড় ঘণ্টা তারা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার খোলা না পেয়ে সকাল ৮টার দিকে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে যান। এ সময় শিক্ষার্থীরা দ্রুত গ্রন্থাগার ভবন খুলে দেওয়া এবং কর্মচারীদের ‘অযৌক্তিক’ দাবি না মানার জন্য উপাচার্যের কাছে দাবি জানান।

জানা গেছে, এবারের ইউনিট ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষায় শুধু কলা ও মানবিক অনুষদের বিভিন্ন বিভাগে আবেদনের সর্বনিম্ন যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয় জিপিএ-৭.০০ এবং ৭.৫০। অন্যদিকে, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ক্ষেত্রে জিপিএ-৭.০০ এবং ৮.০০, গাণিতিক ও পদার্থবিজ্ঞান অনুষদের সিএসই বিভাগে জিপিএ-৯.০০ এবং বাকি বিভাগগুলোতে জিপিএ-৮.০০, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ক্ষেত্রে জিপিএ-৭.৫০ ও ৮.৫০, জীববিজ্ঞান অনুষদের সকল বিভাগের জন্য জিপিএ-৮.০০ এবং বাকি স্বতন্ত্র বিভাগগুলোর জন্য সর্বনিম্ন জিপিএ-৭.৫০ থেকে ৮.৫০ করা হয়েছে।

এ নিয়ম সবার জন্য প্রযোজ্য হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা তাদের পোষ্যদের জন্য ভর্তির সর্বনিম্ন যোগ্যতা আরো কমানোর দাবিতে গত কয়েক দিন ধরেই মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে।

সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. সুমন আলী বলেন, ‘প্রতিবছর ভর্তি পরীক্ষায় কর্মচারীরা তাদের পোষ্যদের জন্য শর্ত শিথিলের অযৌক্তিক দাবি করে। আর প্রশাসনও সেটা মেনে নেয়। তাহলে আমাদের মতো যারা সাধারণ পরিবার থেকে আসে, তাদের ক্ষেত্রেও তো সেটা করা উচিত। পরীক্ষা একই, অথচ নিয়ম ভিন্ন, এটা সত্যিই বৈষম্যমূলক।’

পরে সকাল সোয়া ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার এসে গ্রন্থাগার খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করলে শিক্ষার্থীরা অবস্থান উঠিয়ে নেন।

অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার বলেন, ‘কর্মচারীদের কর্মবিরতির জন্য সাময়িক সমস্যা তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি জানা মাত্রই আমি গ্রন্থাগার খোলার ব্যবস্থা নিয়েছি।’

এর আগে গ্রন্থাগার ভবন থেকে আসার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালনরত কর্মচারীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হলে উত্তপ্ত পরিস্থিতির তৈরি হয়। পরে জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী ও কর্মচারী নেতাদের হস্তক্ষেপে সমস্যা এড়ানো সম্ভব হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছে জাবি কর্মচারী ইউনিয়ন ও কর্মচারী সমিতি।

কর্মচারীরা কাজে যোগদান না দেওয়ায় অধিকাংশ বিভাগে ক্লাস বন্ধ আছে, স্থবির হয়ে পড়েছে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড।

যোগাযোগ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবুল হোসেন বলেন, ‘কর্মচারীদের দাবির বিষয়টি নিয়ে কর্মচারী নেতাদের নিয়ে বৈঠকে আছি। একটা সমাধানে পৌঁছার চেষ্টা চলছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’

উল্লেখ্য, গত বছরের ভর্তিতে কর্মচারীদের দাবির মুখে পোষ্যদের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সর্বনিম্ন নম্বর ৬০ এর মধ্যে ২১ থেকে কমিয়ে ১৮ করা হয়েছিল। অথচ সাধারণ ভর্তি-ইচ্ছুকরা ৪৫ এর ওপরে নম্বর পেয়েও ভর্তির সুযোগ পায়নি।

ঢাকা, ২৭ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ