ফের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩তম ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সোবহান। রোববার বিকাল ৫টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সহকারী সচিব আবদুস সাত্তার মিয়া প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন।
এ আদেশের ফলে দীর্ঘ ৪৮ দিন শূণ্য থাকার পর ভিসি পেল বিশ্ববিদ্যালয়টি। তবে বিগত মেয়াদগুলোতে ভিসি, প্রোভিসি পদে একসঙ্গে নিয়োগ দেয়া হলেও এবার শুধু ভিসি নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
প্রথম মেয়াদে অধ্যাপক সোবহান ২০০৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ভিসি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি মেয়াদ পূর্ণ করেন। প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সময় তার বিরুদ্ধে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিতর্কিত ভূমিকা পালনের অভিযোগ ওঠে।
মন্ত্রণালয় থেকে জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ১৯৭৩ এর ১১ (২) ধারা অনুযায়ী এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আব্দুস সোবহানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পদে নিয়োগ প্রদান করতে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।
এদিকে বিকাল পৌনে ৬টার দিকে প্রশাসন ভবনে এসে দায়িত্বগ্রহণ করেন তিনি। দায়িত্বগ্রহণের সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মু. এন্তাজুল হক, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মজিবুল হক আজাদ খান প্রমুখ।
দায়িত্বগ্রহণকালে অধ্যাপক আবদুস সোবহান ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেয়ায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, কারও প্রতি আমার হিংসা, বিদ্বেষ নেই। বিশ্ববিদ্যালয় সবার, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতা পেলে আমি নিশ্চিত সুচারুভাবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করতে পারব। এসময় তিনি রাজশাহী মহানগর, জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় ১৯৭৩ সালে প্রণিত অধ্যাদেশের নিয়ম এড়িয়ে অলিখিতভাবে নিয়ম হয়ে ওঠা পদ্ধতিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
অলিখিত নিয়ম অনুযায়ী, আওয়ামীপন্থী তিনজন অধ্যাপকের নাম প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেখান থেকে মনোনীত করে রাষ্ট্রপতি দফতরে যায়। রাষ্ট্রপতি চূড়ান্তভাবে ভিসি পদে একজনকে নিয়োগে সম্মতি জ্ঞাপন করেন।
অথচ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ১১ (২) ধারা অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে তিনজন অধ্যাপককে মনোনীত করা হবে। ওই তিনজনের প্যানেল থেকে একজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতি ভিসি পদে নিয়োগ দেবেন।
গত ১৯ মার্চ বিদায়ী ভিসি অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মিজানউদ্দিন ও প্রো-ভিসি অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহানের মেয়াদকাল শেষ হয়। এরপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ দুই পদ শূণ্য ছিল। সবশেষ ৪ মে কোষাধ্যক্ষ পদও শূন্য হয়ে যায়।
এমএনজে





