‘ফররুখ আহমদ আপদমস্তক একজন গণমানুষের কবি। বিংশ শতাব্দীর কুড়ির দশকে কবি কাজী নজরুল ইসলাম মানবতার জয় জয়কারের যে সঙ্গীতের দ্বার উন্মোচন করলেন কবি ফররুখ আহমদ সে ধারাকে চল্লিশের দশকে আরো বেগবান করেন।

সে সময় কবিতা, গান, খেলাধুলা রাজনীতিসহ বাঙালী মুসলমানদের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছিল এক জাগরণের উচ্ছলতা।

কবি ফররুখ সে উচ্ছলতায় গতিময়তা সঞ্চার করতে নির্যাতিতদের পক্ষে লড়াই করেছেন।’ শীলন সাহিত্য পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সাহিত্যসভায় বক্তারা এ সব কথা বলেন।

আজ শনিবার বিকেল সাড়ে চারটায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ কলাভবনে ফররুখ আহমদ স্মরণে আলোচনা সভা ও কবিতা পাঠের আসর অনুষ্ঠিত হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক কবি ও গবেষক ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের খ্যাতিমান লেখক ও শিশু সংগঠকআবু হেনা আবিদ জাফর।

আলোচনা করেন মাসিক আজকের মহুয়া পত্রিকার সম্পাদক কবি ও কলামিষ্ট কবিতা পারভীন, রাবির সহযোগী অধ্যাপক বিশিষ্ট রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী ড. হারুন উর রশীদ, কবি কোহিনুর সুলতানা, মাসিক নির্ঝর সম্পাদক ওয়াহিদ জামান, কবি সৈকত আবদুর রহিম প্রমুখ।

বক্তাগণ আরো বলেন, গণমানুষের জন্যই নিবেদিত ছিলেন কবি ফররুখ আহমদ। জালিমের নিষ্টুরতা, নির্মমতা, অমানবিকতা ও অসাহায়দের চিত্রিত করতে তিনি নির্মান করেছেন বিরান মাড়কের গান, তুলে এনেছেন অসহায় মানুষের ‘আউলাদ, পথে পথে দেখেছেন ‘লাশ’ মুক্তিকামী মানুষের জন্য খুঁজে ফিরেছেন ‘উমর দরাজ দিল’ সাত সাগরেরমাঝি হয়ে সফর করেছেন ‘বারদরিয়ায়’ সিন্দবাদকে ডেকে হাতেমতায়ীকে সঙ্গি করে ‘হেবার রাজ তোরণ’ এ পৌঁছতে চেয়েছেন নির্দিধায়।

তাইতো দিন যত গড়াচ্ছে, গবেষণা যত বাড়ছে কবি ফররুখ আহমদ পুরোপুরি গণমানুষের কবি হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে। বিশ্বায়ন এবং সাংস্কৃতিক আগ্রাসন মোকাবেলায় তার সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে বলেও বক্তাগণ উল্লেখ করেন।

উপস্থিত অতিথিবৃন্দের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে ছড়া-কবিতা পাঠ করেন কবি আসাদ বাবু, শরীফ জামিল, আজিজ আবদুল্লাহ, নাবিউল হাসান, খুবাইব মাহমুদ, সাফওয়ান সামাদ, শাহাদত হোসেন, এনামূল হক,  আহমদ ফিরোজ, শিল্পী আশরাফুল ইসলাম, শিল্পী মুনতাসির মুবিন নাশিত প্রমুখ।

এসএইচ