বেদখল হওয়া শহীদ আজমল হোসেন হল পুনরুদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ রোববার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আজমল হল পুনরুদ্ধারের উদ্দেশে বের হয়ে পড়েন।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলটি বাংলাবাজার চৌরাস্তা মোড়ে পৌঁছালে পুলিশের তাতে বাধা দেয়। এক পর্যায়ে শিক্ষর্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্যও করে। রোববার বেলা পৌনে ১২টার দিকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শেষে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী হলটি দখলের উদ্দেশে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।
বর্তমানে শিক্ষার্থীরা চৌরাস্তা মোড়েই বিক্ষোভ করছে। এদিকে পুলিশ-শিক্ষার্থী মুখোমুখি অবস্থানের ফলে উত্তেজনাকর পরিবেশ বিরাজ করছে পুরান ঢাকায়।
যে কানো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী সবকটি সড়কপথে ব্যাপক পুলিশ ও র্যারব মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে আতঙ্কে পুরান ঢাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।
এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তিব্বত হল দখল অভিযানের সময় একইস্থানে পুলিশের ব্যারিকেডের সম্মুখীন হয়েছিল শিক্ষার্থীরা। পরে বাধা উপেক্ষো করে তিব্বত হলে অবস্থান নিলেও পুলিশি হামলায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছিল।
এদিকে ৮ দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নেতৃত্বে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে রায়সাহেব বাজার মোড়ে অবরোধ সৃষ্টি করেছে শিক্ষকরা। অবরোধে পুরান ঢাকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলীর ১৬ ও ১৭ নম্বর রমাকান্ত নন্দী লেনে শহীদ আজমল হোসেন হলটি অবস্থিত। নব্বইয়ের দশকে হলটি বেদখল হয়ে গেলে পুলিশ সদস্যরা এর দখল নেয়। এছাড়া হলটির একাংশ স্থানীয় একটি সমিতি দখল করে নেয়। ১৯৯৬ সালে কিছু অংশ দখল করেন স্থানীয় মোশারফ হোসেন খান। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘বেগম রোকেয়া (শহীদ পরিবার)’ সাইনবোর্ড টানিয়ে জায়গাটি দখল করা হয়। বর্তমানে চারটি পক্ষ হলটির মালিকান দাবি করছে।
এরআগে, সকাল থেকেই জবি ক্যাম্পাসে জড়ো হন হাজার হাজার শিক্ষার্থী। সেখান থেকেই তারা আজ রোববারের মধ্যে বেদখল হওয়া শহীদ আজমল হোসেন হল পুনরুদ্ধারের ঘোষণা দিয়ে রাস্তায় বের হন। ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনের রাস্তায় বেশ কিছুক্ষণ অবস্থানের পর শিক্ষার্থীরা পুনরায় মিছিল নিয়ে আজমল হল দখলের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলে এই পুলিশি বাধার মুখোমুখি হন। 
[b]ঢাকা, ০২ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি[/b]