রাজধানীর মিরপুরে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মিছিলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদেরকে ধাওয়া করে ছাত্ররা। এসময় তাদের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
আজ (শনিবার) দুপুর দেড়টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে এই ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, নিরাপদ সড়কের দাবিতে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে সাত/আট হাজার শিক্ষার্থী একটি মিছিল বের করে। এসময় ওই মিছিলে স্থানীয় ছাত্রলীগের ৩০-৩৫ জন নেতাকর্মী প্রবেশের চেষ্টা করেন। পরে ছাত্ররা তাদেরকে ধাওয়া করলে দৌড়ে পালিয়ে যান তারা।
এর আগে সকালে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে চাইলে তাদের দাঁড়াতে দেয়নি শ্রমিক লীগ। পরে ছাত্রদের মিছিল দেখে তারা সরে যেতে বাধ্য হন।
বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদে শনিবার (০৪ আগস্ট) মিরপুরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করছেন। বিক্ষোভে মেয়ে শিক্ষার্থীরাও অংশ নিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা গাড়ির লাইসেন্স পরীক্ষা ও ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে পথচারীদের উৎসাহিত করছেন।
সকাল থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউট, মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়, বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সরজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বিসিআইসি, মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও আবু তালেব উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত রোববার (২৯ জুলাই) দুপুরে বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার বিষয়ে সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকরা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি হিসেবে নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এসময় তিনি হেসে হেসে এই বিষয়ে দায়ীদের শাস্তির কথা জানানোর পাশাপাশি এই দুর্ঘটনার সঙ্গে ভারতের মহারাষ্ট্রে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহত হওয়ার তুলনা করেন।
পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের নেতা হিসেবে নৌমন্ত্রীর প্রশ্রয়ে বাসের চালক ও হেলপাররা স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠছে- এমন অভিযোগে শাজাহান খান হেসে হেসে বলেন, “আজকের বিষয়ের সঙ্গে এটি রিলেটেড নয়। মহারাষ্ট্রে এক দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহত হলেও কোনও হৈ চৈ হয় না। অথচ বাংলাদেশে সামান্য কিছুতেই হই চই হয়।”
গত ২৯ জুলাই শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী মারা গেলে তার সহপাঠীরা এর বিচার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামে। এরপর, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা সেই আন্দোলনে যোগ দেয়।
এমবি





