কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় (পিএসসি) শিক্ষার্থী কেনাবেচা হয়েছে। এক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী নামসর্বস্ব অন্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পরীক্ষা দিয়েছে।

এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ অর্থ লেনদেন করেছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা জানান, যাদুরচর চাক্তাবাড়ি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোনো অস্তিত্ব নেই।

অথচ ওই বিদ্যালয়ের হয়ে পাঁচ পরীক্ষার্থী পিএসসিতে অংশ নিচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য গত (২৯ নম্বেবর) রবিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে যাদুরচর উচ্চ বিদ্যালয় পিএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে যান প্রতিবেদক। ওই পাঁচ খুদে পরীক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা ডিভাইন প্রি-ক্যাডেট অ্যান্ড হাই স্কুলে লেখাপড়া করেছে।

পরীক্ষার্থীরা জানান, ‘স্যার আমাদের পরীক্ষার খাতায় যাদুরচর চাক্তাবাড়ি স্কুলের নাম লিখতে বলেছেন। ’স্থানীয়রা জানায়, চাক্তাবাড়ি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান অর্থের বিনিময়ে ওই পাঁচজনকে তাঁর প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থী দেখিয়েছেন। মিজানুর রহমান বলেন, ‘ওই পাঁচজন আমার ছাত্র। কিন্তু আমার প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত লেখাপড়া হয় না। তাই তাদের লেখাপড়ার জন্য ডিভাইন প্রি-ক্যাডেট অ্যান্ড হাই স্কুলে লেখাপড়া করার সুযোগ দিয়েছি।

ডিভাইন প্রি-ক্যাডেট অ্যান্ড হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম আর্থিক সুবিধা গ্রহণের কথা অস্বীকার করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, রৌমারীতে এবার ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় (ইশিসপ) ১৬টি মাদরাসা ও পিএসসিতে ১৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অংশ নিচ্ছে। এর বেশির ভাগ অস্তিত্বহীন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধরে রাখতে প্রধান শিক্ষক পরীক্ষার্থীদের ভাড়া করেছেন। কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী টাকার বিনিময়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের নাম লিখছে।

এ বিষয়ে রৌমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পরীক্ষার্থীরা কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে তালিকাভুক্ত হলে আমরা কিছু করতে পারি না। তবে পরীক্ষা শেষে কেউ অভিযোগ করলে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমএ