জেএসসি’র পর শিক্ষার্থীদের হুমড়ি খেয়ে পড়তে হয় বিভাগ বেছে নেওয়ার পেছনে। কেউ বিজ্ঞান বিভাগ, কেউ মানবিক, কেউ বাণিজ্যবিভাগ বেছে নিতে বাধ্য হয়। এর ফলে শিক্ষার্থীরা সকল বিষয়ের সাধারণ ধারণাটুকু অর্জন করতে পারে না। এছাড়া বেশির ভাগ শিক্ষার্থীকে পিতা-মাতার ইচ্ছাতে বিভাগ বাছাই করতে হয়।  

তবে মাধ্যমিকে থাকছে না আর বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ। শিক্ষার্থীরা পছন্দ অনুযায়ী বিষয় নির্ধারণ করতে পারবে। ফলে শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক স্তরে সকল বিষয়ের উপর জ্ঞান লাভ করতে পারবে। তবে উচ্চ মাধ্যমিকে গিয়ে আবার বিভাগ পছন্দ করতে হবে শিক্ষার্থীদের।

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের নিয়ে গঠিত কমিটির সুপারিশের আলোকে এসব সিদ্ধান্ত আগামী ২০২৪ সাল থেকে বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার।

 

এছাড়া, পাবলিক পরীক্ষার সংখ্যা কমিয়ে এনে শ্রেণিকক্ষে ধারাবাহিক মূল্যায়নের পরিমাণ বাড়ানো হবে। এই লক্ষে কাজ করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কারিকুলামের পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এনসিটিবি কর্মকর্তারা গত দুই মাস ধরে পর্যায়ক্রমে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কর্মশালা করছে। তাদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন কারিকুলামের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের উৎপাদনমুখী ও বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

 

এবিষয়ে মতামত জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দেওয়ান সাবাব বলেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীর সকল বিষয়ের উপর প্রাথমিক ধারণা থাকার প্রয়োজন রয়েছে। তাই আমি মনে করি, এটি একটি যুগপোযোগী সিদ্ধান্ত। তবে এর জন্য পাঠ্য বইয়ে সকল বিষয়ের সমান গুরুত্ব দিতে হবে। এছাড়া, শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে আমাদের শিক্ষকরা নির্দিষ্ট বিষয়ে পারদর্শী হলেও সকল বিষয়ের উপর তাদের ধারণার অভাব রয়েছে। তাই এই শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার পূর্বে শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের বিষয়টি সরকারের নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

 

হাসান বিশ্বাস/ মামা