চলতি বছরের মাধ্যমিক (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। মোট ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৭২২ জন শিক্ষার্থী পাস করেছেন। পাসের হার ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

সব বোর্ডে পাসের হারে ছাত্রীরা এগিয়ে থাকলেও ছেলেরা জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে রয়েছেন। গতবছর পাসের হার ছিল ৮৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। গতবারের চেয়ে এ বছর পাসের হার কমেছে ৭ শতাংশ ৯৪ শতাংশ।

অন্যদিকে, সারাদেশে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৭৬১ জন; যা গতবছর ছিল ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬১। গত বছরের চেয়ে এবার জিপিএ-৫ কমেছে ৫ হাজার।

এবার ছাত্রীদের পাসের হার ৮০ দশমিক ৭৮ শতাংশ ও ছাত্রদের পাসের হার ৭৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

ছেলেদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৪৮৮ জন ও মেয়েদের মধ্যে ৫১ হাজার ২৭৩ জন।

এবার মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৭ লাখ ৮১ হাজার ৯৬২ জন; গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ৪৫ হাজার ২১০ জন।

আজ বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল ঘোষণা করেছেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মডেল উত্তরপত্র পদ্ধতির আলোকে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে আগের বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে। অনেকে অসাধুপন্থায় উত্তর লেখার সুযোগ পায়নি। এটিরও প্রভাব ফলাফলের উপর পড়েছে বলে তিনি মনে করেন।

মন্ত্রী বলেন, পুরোনো পদ্ধতিতে খাতা মূল্যায়নে অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকায় নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে। এতে করে খাতা মূল্যায়নে নম্বর দেয়ার ক্ষেত্রে একটি সমতা আসবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

এবার ১০টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ; যা ২০১৬ সালে ছিল ৮৮ দশমিক ২৮ শতাংশ।

এবারই প্রথমবার মডেল উত্তরপত্র মূল্যায়নের মাধ্যমে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ফল প্রণয়ন করা হয়েছে।

এবার ১০ বোর্ডের মধ্যে ৮টি সাধারণ বোর্ডের ফলে শীর্ষে রয়েছে রাজশাহী বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৯০ দশমিক ৭০ শতাংশ।

দ্বিতীয় অবস্থানে ঢাকা বোর্ড, পাসের হার ৮৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৮৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ। চতুর্থ অবস্থানে দিনাজপুর বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৮৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এর পরের অবস্থানে রয়েছে সিলেট বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৮০ দশমিক ২৬ শতাংশ। তার পরের অবস্থানে থাকা যশোর বোর্ডে পাসের হার ৮০ দশমিক ০৪ শতাংশ। বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৭৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। সব চেয়ে পিছিয়ে কুমিল্লা বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৫৯ দশমিক ০৩ শতাংশ।

অন্যদিকে, এবার মাদরাসা বোর্ডে পাসের হার ৭৬ দশমিক ২০ শতাংশ। এ বোর্ডে ছাত্র ও ছাত্রীদের পাসের হার যথাক্রমে ৭৭ দশমিক ১৮ ও ৭৫ দশমিক ১৭ শতাংশ।

এ ছাড়াও কারিগরি বোর্ডে পাসের হার ৭৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

সার্বিক ফলাফলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, আগে বিজ্ঞান, গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে পাসের হার অনেক কম ছিল। আমরা এসব বিষয়ে শিক্ষকদের দক্ষতা ও অতিরিক্ত ক্লাসসহ নানা প্রচেষ্টার মাধ্যমে ফল ভালো করতে সক্ষম হয়েছি।

অন্যদিকে, বিদেশি ৮টি কেন্দ্রে পাসের হার ৯৪ দশমিক ২৮ শতাংশ। সেখানে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১১২ জন।

উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। তাত্ত্বিক বা লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২ মার্চ। ব্যবহারিক পরীক্ষা ৪ মার্চ শুরু হয়ে শেষ হয় ১১ মার্চ।

এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬১৩ জন। এর মধ্যে আট বোর্ডের অধীনে এসএসসিতে ১৪ লাখ ২৫ হাজার ৯০০ জন, মাদরাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে দুই লাখ ৫৬ হাজার ৫০১ ও এসএসসি ভোকেশনালে (কারিগরি) এক লাখ চার হাজার ২১২ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেন।

এমই