রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রহমতুন্নেসা হলের সহকারী আবাসিক শিক্ষিকা (পূর্ণকালীন) পাক নেহাদ বানুর পদত্য সহকারী প্রক্টর মো. রোকনুজ্জামান আন্দোলনরত ছাত্রীদের সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দিলে তারা তালা খুলে দেয়।

হল সূত্রে জানা যায়, প্রাধ্যক্ষ ও আবাসিক শিক্ষক পাক নেহাদ বানুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ব্যবহার অভিযোগ করে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা।

তারা প্রশাসনের কাছেও অভিযোগ করে ওই দুই শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। আন্দোলনের পর থেকে দুই শিক্ষক শিক্ষার্থীদেরকে বিভিন্ন হুমকি-ধামকিসহ তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতে থাকেন।

তারই জের ধরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে হলের শতাধিক আবাসিক ছাত্রী সহকারী আবাসিক শিক্ষিকা পাক নেহাদ বানুর কক্ষে তলা ঝুলিয়ে দিয়ে হলের ভিতরে আন্দোলন করতে থাকে।

আটকের পরে বেলা ১টার দিকে হলের প্রধ্যক্ষ মিলি জেসমিন ও সহকারী প্রক্টর মো. রোকনুজ্জামান এসে পরিবেশ শান্ত করার চেষ্টা করেন।

অবশেষে আড়াইটার দিকে সহকারী প্রক্টর তদের সমস্যাগুলো ভিসি স্যারের সাথে বলে সমাধানের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা তলা খুলে দেয়।

আন্দোলনকারী লোক প্রশাসন বিভাগের এক ছাত্রী বলেন, ‘সহকারী প্রক্টর স্যার পাক নেহাদ বানুকে এই হলে রাখবে না বলে আশ্বাস দিলে আমরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেই।’

জানতে চাইলে সহকারী প্রক্টর মো. রোকনুজ্জামান বলেন, রহমতুন্নেসা হলে সমস্যা হওয়ায় প্রক্টর দপ্তর থেকে আমাকে সেখানে যেতে বলা হয়। সেখানে গিয়ে পরিবেশ শান্ত করার চেষ্টা করি, বর্তমানে হলের অবস্থা স্বাভাবিক আছে।

হলের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, হলের আবাসিক শিক্ষক পাক নেহাদ বানু আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এর আগেও আমরা হলের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার কথা তুলে ধরে হল প্রাধ্যক্ষ ও সহকারী আবাসিক শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি করেছিলাম।
তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলেছিলো সব ঠিক হয়ে যাবে।

ছাত্র উপদেষ্টা আমাদেরকে বলেছিলেন কোন সমস্যা থাকবে না। কিন্তু কিছুই ঠিক হয়নি। উল্টো যারা আন্দোলন করেছে তাদের সবাইকে এক এক করে ডেকে নেহাদ বানু বলেন, তোমরা যারা আন্দোলন করেছো তাদেরকে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নিব।

হল প্রাধ্যক্ষ প্রফেসর মিলি জেসমিন অবশ্যই তার ও পাক নেহাদ বানুর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সমূহ অস্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে ভিসি স্যারের সাথে কথা বলবো।

বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি প্রফেসর ড. মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, ‘ওই হলের শিক্ষার্থীরা হলের অব্যবস্থাপনা এবং এক কর্মকর্তার খারাপ ব্যবহারসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা আমাকে জানিয়েছিলেন। অমি ভেবেছিলাম সব ঠিক হয়ে যাবে,

কিন্তু সমস্যার কোন সমাধান হয়নি। এখন নতুন করে সবার সঙ্গে বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
প্রসঙ্গত, গত ২৯ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর প্রাধ্যক্ষ প্রফেসর মিলি জেসমিন ও আবাসিক শিক্ষিকা পাক নেহাদ বানুর নানা দূর্ব্যবহারের কারণ দেখিয়ে পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করেছিল আবাসিক হলের ছাত্রীরা।

আগের দাবিতে আবারো আন্দোলনে নেমেছে হলের ছাত্রীরা। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত ঐ শিক্ষিকার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে আটকে রেখে আন্দোলন করে।

এসএম