মাধ্যমিক শিক্ষা খাতের উন্নয়ন প্রকল্প (এসইএসডিপি) থেকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ১ কোটি ২০ লাখ ডলার ঋণ বাতিল করেছে।
বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী এর পরিমাণ ৯৩ কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অনিশ্চয়তার কারণে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাটি কয়েক দফায় এ পরিমাণ অর্থ বাতিল করেছে। গত ৬ জানুয়ারি এক চিঠিতে শেষ দফায় ১৭ কোটি টাকা বাতিল করে এডিবি।
মাধ্যমিক খাতের শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পটি ২০০৬ সালে হাতে নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরবর্তী সময়ে কয়েক দফা সংশোধন করে প্রকল্পটির মেয়াদ ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয় ৮৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬৬৩ কোটি টাকা এডিবির দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবায়নে শ্লথগতি হওয়ায় ৫৭২ কোটি টাকা দিয়েছে এডিবি। অবশিষ্ট ৯৩ কোটি টাকা সম্প্রতি কয়েক দফা চিঠি দিয়ে বাতিল করেছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এডিবি উইংয়ের যুগ্ম সচিব আবু সাঈদ ফকির সমকালকে বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো অর্থ পেতে যতটা আগ্রহী, বাস্তবায়নে সেটি লক্ষ্য করা যায় না। মাধ্যমিক শিক্ষা খাতের উন্নয়ন প্রকল্পেও বাস্তবায়নে অস্বাভাবিক শ্লথগতি ছিল। তিন বছরের প্রকল্প শেষ হয়েছে ১০ বছরে। এ কারণে বেশ কিছু বরাদ্দ বাতিল করেছে এডিবি। এ অর্থ অন্য একটি প্রকল্পে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে ইআরডি।
এসইএসডিপি প্রকল্পের পরিচালক রতন কুমার রায় সমকালকে বলেন, নানা জটিলতার কারণে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী প্রকল্পের কিছু অংশের কাজ করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া ডলরের বিনিময় হার পরিবর্তনের কারণে বাড়তি অর্থ পেয়েছে বাংলাদেশ। এসব কারণে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে এডিবি কিছু বরাদ্দ বাতিল করেছে।
গত ৬ জানুয়ারি ইআরডি সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিনকে লেখা এক চিঠিতে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর কাজুহিকো হিগুইচি শেষ দফা ১৭ কোটি টাকা বাতিল করেছে। এতে বলা হয়েছে, এডিবির কন্ট্রোলারস ডিপার্টমেন্ট চূড়ান্তভাবে এসইএসডিপি প্রকল্পের অর্থ বাতিল করেছে। যা ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরে কার্যকর করা হয়েছে। শিগগিরই প্রকল্পটির বিস্তারিত তথ্য পাঠানো হবে। চিঠিটির অনুলিপি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ এবং মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব, শিক্ষা সচিব এবং এসইএসডিপি প্রকল্পের পরিচালককে পাঠানো হয়েছে।
এডিবি ঢাকা কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, নানা কারণে সম্প্রতি প্রকল্পে অর্থ প্রত্যাহার বা বাতিলের ঘটনা ঘটছে। মূলত প্রকল্পে শ্লথগতি এবং ঋণের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করতে না পারার কারণে বাতিলের ঘটনা বেশি ঘটছে। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার গাফিলতিতে অর্থ বাতিল করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রকল্পটির পুরো অর্থ বাস্তবায়ন করতে পারলে মাধ্যমিক শিক্ষা খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হতো। কিন্তু সহজ শর্তে ঋণের সঠিক ব্যবহার সম্ভব হয়নি।
প্রকল্পটির আওতায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনার কথা রয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক শিক্ষায় ব্যবস্থাপনা এবং সুশাসন বাস্তবায়ন, এমপিও কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণ, গুণগত শিক্ষা, কারিকুলামের মান বৃদ্ধি, এসএসসি এবং জেএসসি পরীক্ষার সংস্কার, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন, মাধ্যমিকে শিক্ষায় সমতা আনা এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, প্রকল্পটির প্রশিক্ষণ এবং যন্ত্রপাতি কেনাকাটা নিয়ে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাটির অসন্তোষ ছিল। ভবিষ্যতে এই অর্থ ব্যয়ে অনিয়ম হতে পারে এমন সন্দেহ ছিল। এর ওপর ২০০৬ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটিতে বাস্তবায়নে ধীরগতি থাকায় এডিবি এ সিদ্ধান্ত নেয়।
ওএফ





