হলির রঙে মেতেছে আজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়(জবি)। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে রঙ খেলায় মেতেছিল পুরো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

আজ ১৮ ফাল্গুন ১৪২৩, দোলযাত্রা উৎসব (হলি উৎসব) উপলক্ষে সকাল থেকেই রঙ খেলা নিয়ে মেতেছিল জবি ক্যাম্পাস।

ব্যবসা শিক্ষা ভবন, কলা ভবন, ভাষা শহীদ রফিক ভবন ও বিজ্ঞান অনুষদের অনেক ছাত্র-শিক্ষক মেতে উঠে এই আনন্দ উৎসবে।

এ যেন মন মাতানো রঙের উৎসব ছিল আজ। বিভিন্ন অনুষদের ছাত্র-ছাত্রীরা একসঙ্গে আনন্দ মেতেছিল বিভিন্ন রকমের রঙ হাতে নিয়ে। বসন্ত আর ফাল্গুনের উৎসবের মত এই দিনটিও বাংলার ইতিহাঁস ও সাহিেত্য জায়গা করে নিয়েছে নিজের মত করে আনন্দ উৎসবের নামে।

আজ হলি উৎসবের আনন্দের অনুভূতি জানতে চাইলে ইতিহাস বিভাগের স্নাতকোত্তর বর্ষের ছাত্র চঞ্চল কুমার বলেন " এই আনন্দটি সার্বজনীন আমরা সবাই এই আনন্দের অংশীদারি, হিন্দু মুসলিম, বৌদ্ধ খ্রিষ্টান নির্বিশেষে "।

বাংলা বিভাগের ৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থী রবিন বলেন " এই উৎসবটিকে আমরা ধর্মীয় উৎসব হিসেবে নয় বরং আনন্দ উৎসব হিসেবে নিয়েছি "

তিনি এসময় আরো বলেন "যখন আমরা একসাথে এই খেলায় মেতে উঠি তখন বাহির থেকে কারো বোঝার ক্ষমতা নেই এখানে কে হিন্দু কে মুসলিম "।

জবি প্রশাসনও এই দিনটি উপলক্ষে সবাইকে আনন্দের শুভেচ্ছা বার্তা জানিয়েছে।

unnamed (9)

বলা বাহুল্য যে, দোলযাত্রা একটি হিন্দু বৈষ্ণব উৎসব। বহির্বঙ্গে পালিত হোলি উৎসবটির সঙ্গে দোলযাত্রা উৎসবটি সম্পর্কযুক্ত। এই উৎসবের অপর নাম বসন্তোৎসব। ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে দোলযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী, ফাল্গুনী পূর্ণিমা বা দোলপূর্ণিমার দিন বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ আবির বা গুলাল নিয়ে রাধিকা ও অন্যান্য গোপীগণের সহিত রং খেলায় মেতেছিলেন। সেই ঘটনা থেকেই দোল খেলার উৎপত্তি হয়। দোলযাত্রার দিন সকালে তাই রাধা ও কৃষ্ণের বিগ্রহ আবির ও গুলালে স্নাত করে দোলায় চড়িয়ে কীর্তনগান সহকারে শোভাযাত্রায় বের করা হয়। এরপর ভক্তেরা আবির ও গুলাল নিয়ে পরস্পর রং খেলেন। দোল উৎসবের অনুষঙ্গে ফাল্গুনী পূর্ণিমাকে দোলপূর্ণিমা বলা হয়। আবার এই পূর্ণিমা তিথিতেই চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্ম বলে একে গৌরপূর্ণিমা নামেও অভিহিত করা হয়।

দোলযাত্রা উৎসবের একটি ধর্মনিরপেক্ষ দিকও রয়েছে। এই দিন সকাল থেকেই নারীপুরুষ নির্বিশেষে আবির, গুলাল ও বিভিন্ন প্রকার রং নিয়ে খেলায় মত্ত হয়। শান্তিনিকেতনে বিশেষ নৃত্যগীতের মাধ্যমে বসন্তোৎসব পালনের রীতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সময়কাল থেকেই চলে আসছে। দোলের পূর্বদিন খড়, কাঠ, বাঁশ ইত্যাদি জ্বালিয়ে এক বিশেষ বহ্ন্যুৎসবের আয়োজন করা হয়। এই বহ্ন্যুৎসব হোলিকাদহন বা নেড়াপোড়া নামে পরিচিত। উত্তর ভারতে হোলি উৎসবটি বাংলার দোলযাত্রার পরদিন পালিত হয়।

বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দোলযাত্রার ধর্মীয় অংশটাকে বাদ দিয়ে সাংস্কৃতিক অংশটি কে নিয় "দোল যাত্রা " কে রূপান্তর করেছিলেন "বসন্ত উৎসব "।

নাজমুল/জারিফ