প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে সহকারী থানা/উপজেলা শিক্ষা অফিসার পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে সরকারি কর্মকমিশনকে সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। দাবি মানা না হলে পিএসসি ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি পালন করার হুমকি দিয়েছেন তারা।
সোমবার বিকালে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ আলটিমেটাম দেয়া হয়।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিকালে জাতীয় জাদুঘরের সামনে জড়ো হতে থাকেন পাবলিক লাইব্রেরি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে পড়তে আসা শত শত চাকরীপ্রার্থী শিক্ষার্থী। তারা জাদুঘরের সামনে রাস্তা অবরোধ করে মানববন্ধন করেন।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার পদের পরীক্ষার আগের রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ এর আশপাশের এলাকাগুলোতে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়ে। পিএসসির অধীনে যেসব দ্বিতীয় শ্রেণীর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় তার অধিকাংশগুলোতেই প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে।
তারা বলেন, পিএসসির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এই প্রশ্ন ফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত। পিএসসির মতো প্রতিষ্ঠান যদি প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে না পারে তাহলে আমরা কোথায় যাবো। সাধারণ শিক্ষার্থীদের শেষ আশ্রয়স্থল পিএসসিও দিন দিন দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। তাহলে আমরা যাবো কোথায়?
পরীক্ষা বাতিলে সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়ে তারা বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে পরীক্ষা বাতিল করা না হলে পিএসসি ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।
এসময় মানববন্ধনে আসা শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। ফেসবুকে প্রশ্ন কেন/ সরকার জবাব দিন/ প্রশ্ন ফাঁস হলেও শিক্ষকরা চুপ কেন/ সাধারণ শিক্ষার্থীদের শেষ আশ্রয়স্থল পিএসসি আজ দুর্নীতিগ্রস্ত, আমরা যাবো কোথায়/ পিএসসির প্রশ্ন ফাঁস কেন, জবাব চাই/ দুর্নীতিমুক্ত পিএসসি চাই- প্রভৃতি স্লোগানে শাহবাগ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার বিকালে ঢাকা শহরের ১১৫টি কেন্দ্রে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার পদে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার আগের রাতে বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন এলাকায় প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ে।
শুক্রবার পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ফেসবুকে 'বিসিএস গোলসহ' কয়েকটি গ্রুপে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন আপ করেন অনেকেই। একই সঙ্গে পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানানোর জন্য আন্দোলনের কথাও বলেন তারা। এছাড়া কিছু কিছু কেন্দ্রের ভেতরে গিয়ে পরীক্ষার্থীদের কাছে মোবাইল দিয়ে আসার অভিযোগও করেন অনেকেই। কিন্তু ওই কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করা শিক্ষকরা প্রতিবাদ করেননি বলেও অভিযোগ করা হয়।
শুক্রবার থেকেই পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। পিএসসির প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার কারণে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন। অনেকেই স্ট্যাটাস দেন, পিএসসি বেকার যুবকদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি বাবদ কোটি কোটি টাকা নিলেও প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে পারছে না।
ওএফ





