উপর মহলের নির্দেশনা পেলেই আক্রমণ করবে জেনেও আন্দোলন প্রতিরোধ করতে আসা পুলিশ বাহিনীর সদ্যদের পানি পান করালেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসময় পুলিশ সদ্যদের হাতে গোলপ ফুলও দেন ইবির আন্দোলনকারীরা।

বুধবার খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলা কালে এমনটিই দেখা যায়। তবে অবরোধের আওতা মুক্ত ছিল অ্যাম্বুলেন্স।

বুধবার বেলা ১১টায় শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটক সংলগ্ন মহাসড়কে অবস্থান নেয়। শিক্ষার্থীদের অবরোধের পাশেই অবস্থান নেয় পুলিশ।

দুই মন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার, সুফিয়া হলের ছাত্রীর পা কেটে দেয়ার বিচার দাবি এবং কোটা সংস্কারের বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট পদক্ষেপসহ বেশ কিছু যৌক্তিক দাবি নিয়ে পুরো দেশের ছাত্র সমাজের সাথে মাঠে নেমেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

একই সাথে দেশ ব্যাপী পুলিশ ও ছাত্রলীগ কর্তৃক কোটা সংস্কার প্রত্যাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা ও নির্যাতনের প্রতিবাদ ও বিচারের দাবি জানা হয় মিছিল থেকে।

প্রথম থেকেই শিক্ষার্থীদের শান্তি পূর্ণ অবস্থানে পুলিশ আক্রমণ করার কোন কারণ খুঁেজ পায়নি। আন্দোলনের ব্যাপ্তী তিনঘন্টা পার হয়ে গেলে হাপিয়ে যায় পুলিশ সদস্যরা। এ সময় আন্দোলনকরী শিক্ষার্থীরা পুলিশ সদস্যদের পানি পান করায় এবং পুলিশ সদস্যদের হাতে গোলাপ ফুল তুলে দেয়।

দিনের শুরুতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ইবি ছাত্রলীগ এবং প্রশাসন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। শিক্ষার্থীরা বাধা উপেক্ষা করে ক্যাম্পাসে মিছিল এবং মহাসড়ক অবরোধ করে। প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য বৃন্দ এবং ছাত্রউপদেষ্টা শিক্ষার্থীদের রাস্তা ছেড়ে ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থান নিতে বললেও শিক্ষার্থীরা তাদের কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি রাস্তা অবরোধ থেকে বিন্দু মাত্র পিছপা হয়নি।

পরে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলোর সাথে প্রকম্পিত হতে থাকে ইবি ক্যাম্পাস ও রাজপথ। বেলা দুইটার দিকে আন্দোলনে সফলতার বাতাস বুঝতে পেরে আন্দোলনে অবরোধ স্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে সহমত পোষন করেন ইবি শাখা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছে ইবি শিক্ষক সমিতি। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সমর্থন জানানো হয়।

এদিকে কোটা আন্দোলনের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত দেশের ছাত্র সমাজের সাথে পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে ইবির আন্দোলনকারীরা। মহাসড়ক অবরোধ করায় অবরোধ স্থলের দুই দিকে প্রায় ৫কিলোমিটার করে যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে শিক্ষার্থীদের অবরোধের আওতা মুক্ত ছিল অ্যাম্বুলেন্সসহ যে কোন ধরনের রোগী বহনকারী পরিবহণ।

সাইফুল্লাহ হিমেল/এসএম