বর্ষবরণ উৎসব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেটে একাধিক নারীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় তদন্ত কমিটি করতে যাচ্ছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ।
বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি জানিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. এম আমজাদ আলী জানান, বর্ষবরণের দিনে টিএসসির ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ভিডিও ফুটেজে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী বা কোনো পরিচিত মুখ পাওয়া যায়নি। সব ফুটেজ এখনও দেখা শেষ হয়নি। বাকিগুলো দেখে বলা যাবে লাঞ্ছিত ও শ্লীলতাহানির মতো ঘটনা ঘটেছে কি-না।
তরুণীকে বিবস্ত্র ও নারীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) হাইকোর্টের রুল জারির পর এ তৎপরতার কথা জানান তিনি।
আদালতের ওই রুলে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার, পুলিশের রমনা জোনের ডিসি ও শাহবাগ থানার ওসিকে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি লিটন নন্দী অভিযোগ করে বলেন, আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তুহিনের (ঢাবি শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক) নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা যখন প্রক্টরের কাছে যান তখন তিনি আয়েশ করে দাবা খেলছিলেন।
এ ব্যাপারে তুহিন দাস বলেন, আমি সংগঠনের ২০-২৫ নেতাকর্মীকে নিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে প্রক্টর স্যারের অফিসে যাই। তখন দেখি তিনি দাবা খেলছেন। অথচ ঘণ্টা দুয়েক আগে ক্যাম্পাসের মধ্যে এতবড় একটা ঘটনা ঘটে গেছে।
এদিকে শ্লীলতাহানির প্রতিবাদে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকাল চারটায় টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ছাত্র-শিক্ষক-জনতার সংহতি সমাবেশ করতে যাচ্ছে ছাত্র ইউনিয়ন।
ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি হাসান তারেক বলেন, নারীদের শ্লীলতাহানির ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে বুধবার সাত দিনের আল্টিমেটাম দেয়েছি আমরা। এছাড়া আমাদের আন্দোলন চলবে।
আজকের (শুক্রবার) সমাবেশে বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক সমাজ, নারী আন্দোলনের কর্মী, শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের জনগণ অংশ নেবে বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় বুধবার রাতে শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ বাদি হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ১০/৩০ ধারা অনুয়ায়ী মামলা (নম্বর-২৫) দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, পহেলা বৈশাখের সন্ধ্যায় পুলিশের সামনে কয়েকজন উশৃঙ্খল যুবক এক নারীকে বিবস্ত্র করে ফেলে। এ ঘটনায় ছাত্র ইউনিয়নের কয়েকজন নেতাকর্মীরা এসে ওই নারীকে উদ্ধার করতে যায়। এতে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লিটন নন্দীর হাত ভেঙ্গে যায়। পুলিশ এ ঘটনায় ছাত্র ইউনিয়নের দুই ছাত্রকে প্রাথমিকভাবে আটক করলেও পরে তাদের ছেড়ে দেয়।
এ ব্যাপারে পুলিশের পক্ষ থেকে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় (সিসি) ধারণ করা ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ওই ছবি ও ভিডিও ফুটেজ থেকে পুলিশ প্রকৃত দোষীদের সনাক্ত করার চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য, বাঙালীর প্রাণের উৎসব বর্ষবরণের সন্ধ্যায় ঢাবি টিএসসি এলাকায় ৩০-৪০ জনের একটি গ্রুপ চারদিক থেকে ঘিরে ধরে নারীদের বস্ত্রহরণ করে তাদের নগ্নদেহ ভিডিও করছিল।
আক্রান্ত নারীদের রক্ষার জন্য পুলিশের কাছে মিনতি জানালে প্রথমে তারা এগিয়ে এসে মৃদু লাঠিচার্জ করে। কিন্তু বস্ত্রহরণকারীদের ছাত্রলীগ পরিচয় জেনে নিস্ক্রিয় হয়ে যায় তারা।
তখন এক নারীকে রক্ষা করতে গিয়ে এগিয়ে যান ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি লিটন নন্দী নিজের গায়ের পাঞ্জাবি খুলে এক বিবস্ত্র নারীর ইজ্জত হেফাজত করতে গিয়ে মারধরের শিকার হন। তখন তার ডান হাত ভেঙে যায়। পরে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
কেএইচ





