বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদে নিরাপদ সড়কের দাবিতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা এবং বিভাগীয় শহরগুলোতে সপ্তম দিনের মতো সড়কে অবস্থান নিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

তারা রাজধানী এবং শহরগুলোর প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো ছাড়াও রাজশাহী, সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল এবং রংপুরের বিভিন্ন স্কুলে কলেজের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছে।  

সেইসঙ্গে আজও বিভিন্ন স্থানে গাড়ি থামিয়ে লাইসেন্স যাচাই করতে দেখা গেছে তাদের। একই সাথে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে পথচারীদের উৎসাহিত করছেন শিক্ষার্থীরা। অনেক জায়গায় পুলিশ শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করলেও সাড়া মেলেনি।

চট্টগ্রামঃ

 

চট্টগ্রামের বিভিন্ন সড়ক যেমন নগরের বহদ্দারহাট, ২ নম্বর গেট ও নিউমার্কেট মোড় থেকে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিলে বর্তমানে তারা ওয়াসা মোড়ে অবস্থান নিয়েছে। সেখানে তারা চালকদের লাইসেন্স পরীক্ষা করছে।

 

শিক্ষার্থীরা সুশৃঙ্খলভাবে গাড়ি চলাচলের পথ করে দিচ্ছে। সড়কে রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চললেও বাস চলছে একেবারেই কম।

 

সকাল সোয়া ১০টায় প্রথমে ২ নম্বর গেটে অবস্থান নেয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। একই সময় বহদ্দারহাট ও নিউমার্কেট মোড়েও তারা অবস্থান নিতে থাকে। সেসব মোড় থেকে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাদের সরিয়ে দেন। এরপর শিক্ষার্থীরা বিচ্ছিন্নভাবে গিয়ে সবাই ওয়াসা মোড়ে অবস্থান নেয়।

তাদের হাতে নিরাপদ সড়কের দাবি সংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। বর্তমানে সেখানে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের একদল নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছে। আরেকটি দলকে গাড়ির লাইসেন্স যাচাই ও সড়কে সুশৃঙ্খলভাবে গাড়ি চলাচলের পথ সৃষ্টি করার কাজ করতে দেখা গেছে। তবে সেখানে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নিলেও শিক্ষার্থীদের তাঁরা বাধা দিচ্ছেন না।

বরিশালঃ

 

বরিশালের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে। এতে করে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে তারা বিক্ষোভ শুরু করে।

 

অপরদিকে ছাত্ররা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করায় দূরপাল্লার পরিবহন সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

 

সকাল ৯টা থেকে ঢাকা বরিশাল মহাসড়কের কাশীপুর এলাকায় ইনফ্রা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে। এরপর বটতলা বাজার, বগুড়া রোড হয়ে হাতেমআলী কলেজ চৌমাথায় জড়ো হয় শিক্ষার্থীরা। অবরোধের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

 

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেছে, তাদের দাবি বাস্তবায়নের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে দেয়া হোক। নতুবা তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এদিকে ছাত্র বিক্ষোভের কারণে যাত্রীদের বেশ ভোগান্তি হচ্ছে।

 

অপ্রীতিকর ব্যবস্থা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে ব‌লে জা‌নি‌য়েছেন মে‌ট্রো‌প‌লিটন পু‌লিশ। 

এছাড়াও রাজশাহী, রংপুর এবং সিলেটে একই দাবিতে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় অবস্থান নেয়। তাদের দাবি ৯ দফা বাস্তবায়ন করতে হবে।

যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তারা ইতিমধ্যে  এই দফাগুলোতে বাস্তবায়নে কাজ শুরু করে দিয়েছে। তারপরেও শিক্ষার্থী এই ধরনের কথায় আশ্বস্ত  না  হয়ে তারা বাস্তবায়নগুলো দৃশ্যমান দেখতে চাচ্ছে। যার কারণে অব্যাহত আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। 

 

 

এদিকে আন্দোলনের মধ্যে সড়কে বাস না নামানোর ঘোষণা দিয়েছেন পরিবহন মালিকরা। ফলে কোটি মানুষের এই নগরীতে মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। বাস না পেয়ে অটোরিকশায় দ্বিগুণ-তিন গুণ ভাড়া গুণতে হচ্ছে মানুষকে। আবার মানুষের তুলনায় অটোরিকশা কম বলে সবাই তা পাচ্ছেনও না।

জেড