কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্যের পদটি দীর্ঘ ৩৮দিন ধরে শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন উপাচার্য না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। সেশনজটেরআশঙ্কা করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
এদিকে গত ২০ জুলাই উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষক সমিতি। তবে ৩৮দিন পেরিয়ে গেলেও উপাচার্যের পদটি এখনো শূন্য রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম সরকারকে অব্যাহতি দেয়া হয়। রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৮০ এর ১০ (১) ধারা অনুযায়ী নিয়োগাদেশের (ক) শর্তানুসারে উপাচার্য অধ্যাপক ড.আবদুল হাকিম সরকারকে অব্যাহতি দেন।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ২৭ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম সরকারকে চার বছরের জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
তবে মেয়াদ পূর্তির আগেই তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। উপাচার্য আবদুল হাকিম সরকারকে অব্যাহতি দেওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তার জানান, উপাচার্যের পদটি শূন্য থাকায় বিভিন্ন দপ্তরের অনেক ফাইল স্বাক্ষর বন্ধ রয়েছে।
অনুমোদনের অভাবে বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষা কমিটি করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা কবে নেওয়া হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বড় ধরনের সেশনজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মাদ্রাসার যেসব ফাজিল ও কামিল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে, উপাচার্য না থাকায় সেগুলোর ফল প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভা, সিন্ডিকেট ও নীতিনির্ধারণী সভাও হচ্ছে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, প্রায় ৩৮ দিন ধরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদটি শূন্য রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় উপাচার্য আবদুল হাকিম সরকারকে অব্যাহতি
দেওয়ার পর থেকে এ পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আর্কষণ করে তিনি অনতিবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগের দাবি জানান।
এমতাজ হোসেন আরো বলেন, উপাচার্য পদটি শূন্য থাকায় আমরা অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছি। যেকোনো সময় ক্যাম্পাসে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে অতি দ্রুত উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ার জন্য আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ মহামান্য রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি কামনা করছি।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ভারপ্রাপ্ত হিসাব পরিচালক আকামদ্দিন বিশ্বাস বলেন, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় এখনো সমস্যার সৃষ্টি হয়নি। তবে এভাবে চলতে থাকলে কিছুদিনের মধ্যে বেতন-ভাতা দিতে প্রশাসনকে বড় রকমের সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফ জানান, শিগগির উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া না হলে সার্বিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে। কারন উপাচার্য ক্যাম্পাসের অভিভাবক।
অথচ এক মাসেরও অধিক সময় উপাচায ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছে। নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া না
হলে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে বেতন উত্তোলন নিয়ে কিছু জটিল প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হতে হবে। এভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালানো খুব কঠিন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান জানান, উপাচার্য না থাকায় ক্যাম্পাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না।
এসএম/সবুজ





