মহান বিজয় দিবসে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) কয়েকজন শিক্ষক কর্তৃক জাতীয় পতাকা বিকৃত করে ফটোসেশন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করার ঘটনায় জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে।
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশসহ এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে উপাচার্যের কাছে পাঠানো হয়েছে।
রংপুর জেলা প্রশাসক হাসিব আহসান জানান, জাতীয় পতাকা বিকৃতির ঘটনায় রংপুর জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রব্বানী মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে জাতীয় পতাকা বিকৃতির প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সে কারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
গত বৃহস্পতিবার গঠন করা ওই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সদরুল আলম দুলু এবং মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার জিন্নাহ আল মামুন।
এদিকে এ ঘটনার সাতদিন পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে ঢাকাস্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের লিঁয়াজু অফিসে সিন্ডিকেটের বিশেষ সভায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এতে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর নাজমুল ইসলামকে আহবায়ক, প্রক্টর আতিউর রহমানকে সদস্য সচিব এবং একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য সুচিতা সুচিত্রা শারমিনকে সদস্য করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে জাতীয় পতাকায় সবুজের ভেতরে লাল বৃত্তের পরিবর্তে চারকোণা লাল আকৃতি দিয়ে বিকৃত করা হয়। এছাড়া পায়ের নিচে লাগিয়ে ছবি তুলে তা ফেসবুকে দেয়ার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে দোষীদেও শাস্তির দাবিতে ক্যাম্পাস ও পার্কের মোড়ে বিক্ষোভ-সমাবেশ, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন হচ্ছে।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষক ও একজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তাজহাট থানায় পৃথক দু’টি এজাহার করেছেন। রোববার রংপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শওকত আলী এ দু’টি তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
ইভান/এমবি





