২০০৫ সালে জাতীয় সংসদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫ পাশের মধ্য দিয়ে পূর্বতন জগন্নাথ কলেজ থেকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু । একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হতে গেলে অনেকগুলি অবকাঠামো যুক্তিযুক্ত ও অপরিহার্য। যেমন, শিক্ষার্থীদের আবাসন, শিক্ষকদের আবাসন, উচ্চতর গবেষণা কেন্দ্র, পর্যাপ্ত ক্লাসরুম ইত্যাদি। অথচ, যার কোন অংশই সয়ংসম্পূর্ণ নেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। অবকাঠামো ছাড়া একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হবার পেছনে কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে কি না তা আমার কাছে অজ্ঞাত।

তবে আবাসন ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অদম্য সাহসী ও পরিশ্রমী যা নানা প্রতিকূলতা থাকা স্বত্বেও মেধা ও মননে অগ্রসর এবং দেশ ও জাতি গঠনে অগ্রনী ভূমিকা পালন করছে।

বর্তমানে প্রায় ২৫,০০০ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে আবাসনবিহীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। যাদের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী বাসা ভাড়া বা মেস ভাড়া করে ঠাই নিয়েছে এবং মানবেতর জীবন যাপন করছে। এই মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীদের বাসা ভাড়া বা মেস ভাড়া ও নিজের আনুষাঙ্গিক খরচ টিউশন করেই যোগান দিতে হয়, এমনকি কেউ কেউ পারিবারের ভরণপোষণের দায়িত্বের মুখে পড়ে।

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গত ১৮ই মার্চ বন্ধ ঘোষণা করেন। সঙ্গত পরিস্থিতির কারণে গত তিন (০৩) মাস যাবত কোন টিউশন বা প্রাইভেট নেই বা অন্য কোন আয়ের উৎস নেই যাতে আর্থিক পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে শিক্ষার্থীরা। এই মহামারীর সংকটে বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস না ব্যবহার করলেও পুরো তিন মাসের ভাড়া আদায়ের জন্য চাপ দিচ্ছেন বাসা বা মেস মালিকরা। এমনকি বাসা ছাড়ার নোটিশ দেবার হুমকি দিচ্ছেন কতিপয় বাড়িওয়ালা। যার ফলে, বাড়িওয়ালাদের সাথে বাকবিতন্ডা ও রুঢ় আচরণে জড়িয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। সঙ্গত সংকটে শিক্ষার্থীরা হয়ে যাচ্ছে হতাশাগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত, বাড়ছে অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপ।

এই সংকটময় করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অগ্রণী ভুমিকা পালন করবে বলে মনে করি। কারণ, ইতমধ্যে প্রশাসন নানা উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, এটিই তার প্রমান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান স্যার একজন দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ, তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে পাশে থেকেছেন এবং যথাযথ ভুমিকা পালন করেছেন। তবে এই দুর্যোগ পরিস্থিতিতে বিশেষ করে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন বলে প্রত্যাশা করি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় তথা জরুরি সরকারি নির্দেশনার অনুরোধ করছি এই আবাসন বিহীন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। কেননা, আগামীর বাংলাদেশ নেতৃত্ব দেবে বর্তমান শিক্ষার্থীরা। কাজেই আগামীর বাংলাদেশ গড়ার জন্য শিক্ষার্থীদের মানসিক ও অর্থনৈতিক চাপ উপশম করা সরকার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সুদৃষ্ট কামনা করছি।

হাসান সোহান 
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

(বি. দ্র. লেখকের একান্ত নিজস্ব। টাইমনিউজবিডি’র সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই)

ফারুক/এমবি