বিদেশে অধ্যয়নরত বা অধ্যয়নের সুযোগপ্রাপ্ত বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের বৃত্তির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ-সুইডেন ট্রাস্ট ফান্ড। ফান্ডের মাধ্যমে সুইডেনের অনুদানে বৃত্তির আওতায় ভ্রমণ ব্যয় দেওয়া হবে। এ জন্য আগ্রহীদের কাছ থেকে আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের এফ এন্ড এফ-৩ শাখা বুধবার এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ-সুইডেন ট্রাস্ট ফান্ড থেকে বিদেশে অধ্যয়নকারী মেধাবী বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের এক পথের (ওয়ানওয়ে) ভ্রমন ব্যয়ের মঞ্জুরি প্রদান করা হবে। তবে এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে অবশ্যই ২০১৪ সালে দেশের বাইরের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্নাতকপূর্ব, স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি পর্যায়ে অধ্যয়নের সুযোগ পেতে হবে।

ফান্ডের ওয়েবসাইটে প্রদত্ত নির্ধারিত ফরমেটে আগ্রহী শিক্ষার্থীকে আবেদন করতে হবে। এরপর চূড়ান্ত মূল্যায়ন শেষে মনোনীত শিক্ষার্থীদের এ সুযোগ দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে এবং প্রায়োগিক মূল্য আছে, এমন পাঠ্য বিষয়সমূহকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

আবেদনকারীকে অবশ্যই সনাতন পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এসএসসি বা সমমান এবং এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় ন্যূনতম দ্বিতীয় বিভাগ প্রাপ্ত হতে হবে। ২০০৩ সালের প্রার্থী হলে ন্যূনতম জিপিএ ২ দশমিক ৫০ হতে হবে। আবেদনকারী ২০০৪ সাল বা তার পরের হলে ন্যূনতম জিপিএ ৩ দশমিক ০০ হতে হবে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ডিগ্রির ক্ষেত্রে ৪ স্কেলে কমপক্ষে ৩ দশমিক ২০ এবং ৫ স্কেলে ৪ দশমিক ০০ সিজিপিএ বা সমমান থাকতে হবে।

এ ছাড়া প্রার্থীকে অবশ্যই প্রযোজ্য ক্ষেত্রে টোয়েফেল, আইইএলটিএস, স্যাট, গ্রে বা জিম্যাট সম্পন্ন থাকতে হবে।

ইআরডি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের লিংকে (http://bstf.erd.gov.bd) নির্ধারিত ফরম পূরণ করে আবেদন করা যাবে।

৪ মে থেকে আগামী ১৮ জুন পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে বলে ইআরডি’র বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম বলেন, ‘অনুদান যত পাওয়া যাবে ততই ভাল। এটি আমাদের জন্য দরকার। তবে সাধারণত যেসব দেশ অনুদান দেয়, তারা কারিগরি সহায়তার ক্ষেত্রে অনুদান দিয়ে থাকে। এটি আরও ভাল। কেননা অনেক বিষয়ে আমাদের প্রযুক্তি সক্ষমতা থাকে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা ফলাফল ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে বিদেশের অনেক ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায়। কিন্তু টাকার অভাবে তারা ওসব প্রতিষ্ঠানে যেতে পারে না। এ ধরনের মঞ্জুরি ওইসব মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশকে বড় অঙ্কের অনুদান দিচ্ছে সুইডেন। ২০১৪ সাল থেকে পরবর্তী ৭ বছরে বাংলাদেশকে প্রায় ১ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা অনুদান দেবে দেশটি। এই মঞ্জুরি প্রদান কার্যক্রম সামগ্রিক অনুদানের একটি অংশ। বর্তমানে প্রতিবছর ২৮০ কোটি টাকা করে অনুদান দিচ্ছে দেশটি।

মাল্টি ডোনার ট্রাস্ট ফান্ডের মাধ্যমে সুইডেন দেশের প্রাথমিক শিক্ষা, কর্মজীবী শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বেশ কয়েকটি খাতে অনুদান সহায়তা দিচ্ছে।

কেএইচ