ফাঁকা গুলি, টিয়ারশেল ও  লাঠিচার্জ করে কোটা সংস্কারের দাবিতে শাহবাগে অবস্থান নেয়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।

আজ (রোববার) দুপুর ৩টা থেকে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীদের সরাতে রাত পৌনে ৮টার দিকে অ্যাকশন শুরু করে পুলিশ।

আন্দোলনকারীদের সরাতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল ছুঁড়ে। এসময় শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন সড়কে ছড়িয়ে পড়ে।

মাইক ব্যবহার করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে আন্দোলনকারীরা। মাইকের মাধ্যমে অন্যদেরও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বানও জানায় তারা।  তাঁদের দাবি, সরকারি নিয়োগে কোটার পরিমাণ ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা।   

আন্দোলনকারীদের সমন্বয়ক হাসান আল মামুন বলেন, পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ কমূসচিতে নির্বিচারে হামলা করেছে। পুলিশের টিয়ারশেল, ফাঁকা গুলিতে আমাদের শতাধিক আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে ৫ জনকে। আমরা এ হামলার নিন্দা জানাই।

তিনি বলেন, পুলিশ শুধু আমাদের ওপর হামলা করে ক্ষান্ত হয়নি। বঙ্গবন্ধুর ছবিকেও অবমাননা করেছে।

হাসান আল মামুন জানান, তারা এখন চারুকলার সামনে অবস্থান নিয়ে হামলার প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। কিন্তু পুলিশ সেখানেও শাহবাগ থানার সামনে থেকে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করছে। 

এদিকে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ি ঢাকার বাইরে ময়মনসিংহ, বগুড়া, রংপুর, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে কোটা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে আসেন। পরে তাঁদের একটি বিক্ষোভ মিছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে দোয়েল চত্বর হয়ে জাতীয় শহীদ মিনার, ফুলার রোড, পলাশী, নীলক্ষেত, কাঁটাবন হয়ে শাহবাগে আসেন।

এ সময় আন্দোলনকারীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের হাতে থাকে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড। তাতে লেখা ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘শেখ হাসিনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই,’‘আমাদের দাবি আমাদের দাবি, মানতে হবে মেনে নাও,’‘কোটা দিয়ে কামলা নয়, মেধা দিয়ে আমলা চাই,’‘১০%-এর বেশি কোটা নয়’।

কোটা সংস্কারকারীদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে আছে- কোটার যোগ্য প্রার্থী না পেলে শূন্যপদে মেধায় নিয়োগ, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেওয়া, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অভিন্ন বয়সসীমা, নিয়োগ পরীক্ষায় একাধিকবার কোটার সুবিধা ব্যবহার না করা।

কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন চলছে। ওই আন্দোলনের অংশ হিসেবে তাঁরা এই কর্মসূচি পালন করেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন,  “বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে হলে কোটার সংস্কার করতে হবে। আর আমাদের এই দাবি যৌক্তিক। আমরা চাই, সরকার আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেবে।”

এমবি