ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির দাবিতে আমরণ অনশনের নেমেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদভুক্ত পাঁচ বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

আজ (২৩ এপ্রিল) মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান ভবনের সামনে এই অনশনে নামে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা এই অনশন চালিয়ে যাবেন বলে জানান।

জানা যায়, সকাল থেকে ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান ভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন ধরণের স্লোগান দিতে থাকেন।

আন্দোলনের একপর্যায়ে ডিন অফিস ঘেরাও করে তালা লাগিয়ে দেয় তারা। প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদভুক্ত ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগ এবং বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলনে অংশ নেয়।

অনশনে তিনজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পরে। এরমধ্যে শৈকত নামে একজন গুরুতর অসুস্থ্য হয় বলে জানা গেছে। এরপরও প্রশাসনের কোন কর্তাব্যক্তি তাদের সঙ্গে সাক্ষাত করেনি বলে জানায় তারা। ফলে দুপুর ২টায় এই অনুষদের ডিন অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয় তারা। এসময় অফিসে অবস্থানরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আটকা পড়ে। এরপরও এই অনুষদের ডিন অধ্যাপক মমতাজুল ইসলাম ঘটনা স্থলে আসেননি।

পরে বিকাল ৫টায় ছাত্র উপদেষ্টা ও প্রক্টর ঘটনা স্থলে আসেন। তারা শিক্ষার্থীদের অনশন তুলে নিতে বলেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা বলেন, জরুরী সভা করে তাদের দাবি মেনে নিলে তারা অনশন তুলে নিবে। অন্যথায় অনশন অব্যাহত রাখবে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত ছিল।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের ১২ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের অধীনে থাকা ১১টি বিভাগকে আলাদা করে তিনটি অনুষদে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। সেগুলো হলো- প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ, বায়োলজিক্যাল সায়েন্স অনুষদ এবং বিজ্ঞান অনুষদ।

এরমধ্যে নতুন বর্ষ (২০১৮-১৯) থেকে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদভূক্ত পাঁচটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রীর মান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও অন্যান্য ব্যাচগুলোর এই ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোন প্রকার বৈষম্য ছাড়াই সব ব্যাচকে ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজির মান দেওয়ার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন তারা। এরপর বিষয়টি অনুষদকে বার বার অবহিত করার পরও কর্তৃপক্ষ এই ব্যপারে কোন কার্যকারী পদক্ষেপ না নেওয়ায় এর আগেও মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘটসহ ক্লাস বর্জনের মত কর্মসূচী পালন করেন শিক্ষার্থীরা।

প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মমতাজুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি একটি চলমান প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। আগামী ২৭ এপ্রিল ফ্যাকাল্টি মিটিংয়ে বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। এরপর মিটিংয়ে পাশ হলে বিষয়টি একাডেমিক সভায় যাবে।”

এসময় শিক্ষার্থীদের অনসনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ইবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম শাহিনুর রহমান বলেন, “বিষয়টি যেহেতু যথাযথ প্রক্রিয়ায় মধ্যদিয়ে আসতে হবে। ফ্যাকাল্টি মিটিং হয়ে একাডেমিক সভায় আসলে আমরা বিষয়টি বিবেচনা করে দেখবো।”

মুনজুরুল/এমবি