কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। শাহবাগ মোড় দিয়ে এখন কোনো যান চলাচল করছে না।
আজ (রোববার) বিকেল ৩টার দিকে শাহবাগে জড়ো হয়ে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে তাঁরা। সন্ধ্যার পর শাহবাগ মোড়ে আন্দোলনকারীদের সংখ্যা আরও বাড়ে।
রাস্তার ওপর বসেই কোটা সংস্কার নিয়ে স্লোগান দিচ্ছে তারা। ওই মোড়ে বিকেল থেকেই বন্ধ হয়ে যায় যানবাহন চলাচল। তাঁদের দাবি, সরকারি নিয়োগে কোটার পরিমাণ ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা।
মাইক ব্যবহার করে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে যাচ্ছে আন্দোলনকারীরা। মাইকের মাধ্যমে অন্যদেরও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বানও জানায় তারা।
পুলিশ শিশুপার্কের দিকে অবস্থান নিয়েছে। এ ব্যাপারে পুলিশের রমনা জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হাসান সরদার বলেন, “আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছি।” তিনি আরও বলেন, “রাস্তা থেকে আন্দোলনকারীদের সরানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেইনি।”
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে আসেন। পরে তাঁদের একটি বিক্ষোভ মিছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে দোয়েল চত্বর হয়ে জাতীয় শহীদ মিনার, ফুলার রোড, পলাশী, নীলক্ষেত, কাঁটাবন হয়ে শাহবাগে আসেন।
এ সময় আন্দোলনকারীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের হাতে থাকে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড। তাতে লেখা ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘শেখ হাসিনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই,’‘আমাদের দাবি আমাদের দাবি, মানতে হবে মেনে নাও,’‘কোটা দিয়ে কামলা নয়, মেধা দিয়ে আমলা চাই,’‘১০%-এর বেশি কোটা নয়’।
কোটা সংস্কারকারীদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে আছে- কোটার যোগ্য প্রার্থী না পেলে শূন্যপদে মেধায় নিয়োগ, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেওয়া, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অভিন্ন বয়সসীমা, নিয়োগ পরীক্ষায় একাধিকবার কোটার সুবিধা ব্যবহার না করা।
কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন চলছে। ওই আন্দোলনের অংশ হিসেবে তাঁরা এই কর্মসূচি পালন করেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, “বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে হলে কোটার সংস্কার করতে হবে। আর আমাদের এই দাবি যৌক্তিক। আমরা চাই, সরকার আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেবে।”
এমবি





