জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন বরিশাল সরকারি বিএম কলেজে সম্মান প্রথম বর্ষে (২০১৪-১৫ রসায়ন বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে মো. আবদুলাহ। পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর উপজেলার এ মেধাবী শিক্ষার্থী গতকাল বুধবার অবরোধের মধ্যে ঝুকি নিয়ে আসেন ভর্তি হতে। রসায়ন বিভাগের চাহিদা অনুযায়ী টাকা নিয়ে না আসায় বিলম্ব হয় তার ভর্তিতে।
কলেজের নোটিশ বোর্ডে ভর্তির জন্য নির্ধারিত তিন হাজার আট'শ টাকা লেখা দেখে সে তা নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু বিভাগে গিয়ে দেখেন ভর্তি হতে অলিখিতভাবে আরো ৩শ’ টাকা লাগবে। পরে বিকাশের মাধ্যমে পিরোজপুর থেকে বাকি টাকা এনে ভর্তি হন। সন্ধ্যায় তিনি পিরোজপুরের উদ্দেশে রওয়ানা হন।
একই সমস্যায় পড়তে হয় ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার বাসিন্দা নয়ন মজুমদারকে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় সে সরকারি বিএম কলেজের বাংলা বিভাগে ভর্তির সুযোগ পায়। গতকাল বুধবার ভর্তি হতে বরিশালে এসে তার মাথায় হাত। কৃষকের ছেলে নয়ন কোনরকম নোটিশ বোর্ডে দেয়া তথ্যানুযায়ী তিন হাজার টাকা ভর্তির জন্য নিয়ে আসলেও, এসে দেখে ভর্তি হতে আরো ৭৫০ টাকা বিভাগের বিভিন্ন ফান্ডে দিতে হবে। পরে এক নিকটাত্মীয়ের কাছ থেকে বাড়তি টাকা ধার করে ভর্তি হতে হয় নয়নকে।
কেবল নয়ন আর আবদুলাহই নয়, সরকারি বিএম কলেজের ১৯টি বিভাগে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের এরকম বাড়তি অর্থ বিনা রশিদে দিয়ে ভর্তি হতে হচ্ছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট ও কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যানুযায়ী, সম্মান প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য নিবন্ধন ফি, ইনকোর্স পরীক্ষার ফি ও আনুষাঙ্গিক ফিসহ নির্ধারিত এক হাজার ১৫ টাকা। আর ভর্তিতে এ টাকাই ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের দিতে হবে।
তবে কলেজ কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যানুযায়ী স্ব স্ব কলেজের সেমিনার ফি বিজ্ঞানে ৭শ’ টাকা এবং বাণিজ্য ও মানবিকে ৪৭৫ টাকা, গাড়ি ক্রয় বাবদ ৩শ’ টাকা, কর্মচারীদের বেতন ২৫০ টাকা, ডাটা এন্ট্রি ২০ টাকা, আনুষাঙ্গিক ১০০ টাকা ভর্তির সময় দিতে হয়। আর এসব মিলিয়ে হয় এক হাজার ৯৮৭ টাকা।
কিন্তু প্রত্যেক বিভাগে ভর্তির জন্য নেয়া হচ্ছে ৩৬শ’ টাকা থেকে শুরু করে ৪১শ’ টাকা পর্যন্ত। তবে রশিদ দেয়া হচ্ছে তিন হাজার ১৯৫ টাকার। বাকি টাকা বিনা রশিদে নিয়ে নিচ্ছে প্রত্যেকটি বিভাগ।
বিএম কলেজের সম্মান প্রথম বর্ষে ভর্তি কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক এসএম আলাউদ্দিন বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা নির্দেশনা প্রত্যেকটি বিভাগে দেয়া হয়েছে। সেখানে ভর্তিতে কত টাকা নেয়া হবে তা স্পষ্টভাবে উলেখ রয়েছে। এরপর যদি কেউ বেশি নেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সরকারি বিএম কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফজলুল হক বলেন, ভর্তিতে সর্বমোট ৩ হাজার ৬শ’ টাকা নেয়া হচ্ছে। বিজ্ঞান বিভাগে এর চাইতে একটু বেশি রয়েছে। আর এর মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি রয়েছে এক হাজার ১৫ টাকা, কলেজের গাড়ি ক্রয়, ডাটা এন্ট্রি, কর্মচারীদের বেতন ও সেমিনার ফি বাবদ নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বমোট দেড় হাজার টাকা। আর বাকি টাকা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন ফি বাবদ দেয়া হচ্ছে। এর চেয়ে বেশি টাকা যদি কোন বিভাগ নিয়ে থাকে তাহলে তা অবৈধ।
এমআর, জেএ





