চাকরির দাবিতে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও বহিরাগতরে আন্দোলনে অচল হয়ে পরেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এদিকে প্রশাসনের নীরবতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা করছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আশিকুর রহমান জাপান, তৌহিদুর রহমান হিটলার, মাহমুদ হাসান লেলিন, মিজানুর রহমান টিটু, কাশেম মাহমুদ, আরব আলীসহ ৮-১০ জন তাদের চাকরির দাবিতে মেইন গেটে অবস্থান নেয়।

পরে সকাল ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটে, প্রশাসন ভবনের মুল ফটকে, ভিসি, ট্রেজারার, ও রেজিস্ট্রার অফিস, ইবি শাখা অগ্রণী ব্যাংকসহ সকল অফিসে তালা লাগিয়ে দেয়।

এ সময় তারা ভাইভা দিতে আসা প্রার্থীদের আটকে দেয় এবং দ্রুত ক্যাম্পাস এলাকা ত্যাগ করা কথা বলে। জোরপূর্বক ভাইভা প্রার্থীদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়। এসময় মেইন গেট এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পরলে মেইন গেটে অবস্থানরত ভ্যান চাকলরা স্থান ত্যাগ করে। উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এদিকে বিভিন্ন বিভাগের একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান প্রশাসনের একটি অংশ টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার জন্যই এই অচল অবস্থা সৃষ্টি করে রেখেছে।

তথ্য প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিস সূত্রে জনা যায়, মঙ্গলবার অর্থনীতি বিভাগের নিয়োগ বোর্ডের ভাইভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বহিরাগত ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের আন্দোলেনের মুখে অনিবার্য কারণ দেখিয়ে নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

চাকরি প্রত্যাশীরা অভিযোগ করে বলেন, হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতির পর এবার অর্থনীতি বিভাগের নিয়গে প্রশাসন বড় অংকের বাণিজ্য করছে।

পরিবহন অফিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেল থেকে বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ চলাচল। আজ মঙ্গলবার সকালেও ক্যামম্পাসে কোন গাড়ি আসেনি।

পরিবহন বন্ধ থাকায় ক্যাম্পাস ছিল একেবারেই শিক্ষার্থী শূন্য। দুইটি বিভাগের (হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি এবং ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও কোন বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। আইন ও মুসলিম বিধান এবং ইসলামের ইতিহাস ও সাস্কৃতি বিভাগের পূর্ব নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি মোটেও লক্ষ করা যায়নি।

এদিকে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা। ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসাইন বলেন, “র্দীঘ দিন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। আবার পরীক্ষা স্থগিত হওয়াতে আমাদের চরম ক্ষতি হচ্ছে।”

এ ব্যপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক প্রফেসর ড. মামুনুর রহমান জানান, “আমরা ক্যাম্পাসে পরিবহন চলাচল সাভাবিক করার জন্য জোড় প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। আশা করছি খুব তারাতারি পরিবহন সচল হবে।”

ইবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান ক্যাম্পাস অচলের ব্যাপারে বলেন, "আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারারের সাথে ক্যাম্পাস সচলের ব্যাপারে দেখা করেছি এবং তাদেরকে অতি দ্রুত ক্যাম্পাস সচল করার জন্য আল্টিমেটাম দিয়ে এসেছি। দ্রুত ক্যাম্পাস সচল না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব। কারন এভাবে একটি বিশ্ববিদ্যালয় চলতে পারে না।”

প্রক্টর প্রফেসর ড. লোকমান হাকিম বলেন, “বর্তমান ক্যাম্পাসের পরিবেশ স্বাভাবিক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বুধবার সকাল ১০টায় চাকরি প্রত্যাশীদের সাথে আলোচনায় বসবে। ভাইভা দিতে আসা প্রার্থীদের ধাওয়া দেয়ার বিষয়ে তারা কথা বলবেন বলে আমি শুনেছি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকার জানান, “আমরা দ্রুত ক্যাম্পাস সচল করার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। আশা করছি তাড়াতাড়ি সমাধান হয়ে যাবে।”

জেডআই