ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিজ্ঞান ইলেক্ট্রনিক্স এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নাসিমা (ছদ্দ নাম) নামে এক নতুন ছাত্রীকে কয়েক দফা র‌্যাগ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা তাকে র‌্যাগের নামে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন করেছে। এনিয়ে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন মহলে তোলপার শুরু হয়েছে। ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার প্রাণপোন চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একটি পক্ষ বিরুদ্ধে।

এছাড়াও গত ৩১ জানুয়ারি বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক নবীন শিক্ষার্থী আল আমিনকে রাত ৮ থেকে রাত আড়াইটা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরণের মানুষীক ও শারীরিক নির্যাতন করেছে বড় ভাইয়েরা। কুষ্টিয়ার কাস্টম মোড় এলাকায় অবস্থিত একটি ছাত্রবাসে তাকে র‌্যাগের নামে নির্যাতন করা হয়। জানা যায় যারা র‌্যাগ দিয়েছে তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের র‌্যাগ খাওয়া ছাত্রীর সহপাঠিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাস চলাকালে বিভাগেই নাসিমাকে র‌্যাগ দেয় মেরিন ও জাকির নামে দুই বড়ভাই। অনেক সময় পর্যন্ত নাসিমাকে ‘মাল তোমার সাইজ কত?’এরকম বিভিন্ন নোংড়া কথা শোনায় এবং বলতে বলে। এভাবে অনেক নতুন শিক্ষার্থীকে তারা র‌্যাগ দিয়েছে।

শিক্ষক আসলে মোবাইল নাম্বার নিয়ে আপাতত ছেড়ে দেয়।  হলে আসার পর সন্ধার আগে আবার ফোন করে মিষ্টি খাওয়ার জন্য নাসিমাকে সাদ্দাম হোসেন হলের সামনে আসতে বলে। নাসিমা আসতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দেয়। পরে তারা খালেদা জিয়া হলের সামনে আসলে কয়েক জন মিলে নাসিমাকে ঘিরে ধরে এবং বিভিন্নভাবে ছবি তুলতে থাকে। এসময় তারা বিভিন্নভাবে অপমান করে এবং আপত্তিকর মন্তব্য করতে থাকে। বিষয়টি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের নজড়ে আসলে কয়েকজন বড়ভাই নাসিমাকে উদ্ধার করে ছাত্রী হলের ভেরতে পাঠিয়ে দেয়। হলে ফিরে সহপাঠি ও বড় আপুদের কাছে ঘটনা বলতে কান্নায় ভেঙ্গে পরে নাসিমা। এক এক করে ঘটনা ছড়িয়ে পরে পুরো ক্যাম্পাসে।

৩১ জানুয়ারি সন্ধা সাড়ে সাতটায় যশোরের নিজ বাসা থেকে কুষ্টিয়া শহরের কাস্টম মোড়ে এলাকার শাহিন ম্যানশন নামক ছাত্রবাসে আসে আল-আমিন। আসার পর পরই রাত ৮টা থেকে শুরু হয় র‌্যাগিং আর নির্মম নির্যাতন। টানা সাড়ে ৬ ঘন্টা চলে শারীরিক ও মানষীক নির্যাতন। আল-আমিনের গায়ে প্রচন্ড জ্বর থাকা সত্বেও তাকে দিয়ে চেয়ার ছাড়া চেয়ার আকৃতিতে ১৫ মিনিট বসিয়ে রাখা হয়। এক পায়ে ভর করে দুই কান ধরে প্রায় ২০ মিনিট দাড় করিয়ে রাখে। ছাত্রবাসের তিন তলার সকল সিঁড়ি ৫ বার গুনে আসতে বাধ্য করা হয় তাকে। কলমের হেড দিয়ে দড়জার দৈর্ঘ প্রস্থ মেপে ক্ষেত্রফল বের করতে বাধ্য করে তারা।

র‌্যাগ দেওয়ার পুরো সময় মোটা লাঠি নিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে অভিযোগ করে আল-আমিন। রুমে রুমে গিয়ে পরিচিত হওয়ার নামে মানসিক নির্যাতনও করে তারা। বালিশ কে কাল্পনিক বউ সাঁজিয়ে বাসর রাতের অভিনয় করতে বলা হয়। রাত আড়াইটা পর্যন্ত চলে এভাবে। ওই দিন সে আর ঘুমাতে পারেনি। ওই রাত থেকে মারাত্বক অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। পর দিন সকালে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত এলাকার এক বড়ভাইয়ের কাছে এসে আশ্রয় নেয় আল-আমিন। এখনো সে স্বাভাবিক হতে পারে নি। চখেমুখে ভয়ের ছাপ। জানা যায় নির্যাতন কারীরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

এবিষয়ে ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আনওয়ারুল হক বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমার কাছে র‌্যাগের বিষয়ে কোন শিক্ষার্থী লিখতভাবে বা ফোন করে অভিযোগ করেনি। আমি একটি মাধ্যমে জানতে পারলাম কেউ কেউ প্রক্টরের কাছে অভিযোগ করেছে। কিন্তু আমার বোধগম্য নয় তারা কেন ছাত্র উপদেষ্টার আছে আসছে না। কোন শিক্ষার্থী লিখত অভিযোগ করলে আমরা বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখব।’

এমই