আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বুধবার রাত ৮টার পর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ করা হবে।
ফল প্রকাশের পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চায়নের জন্য ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন সম্পন্ন না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।
প্রথম ধাপের ফলের পর শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রম অনুযায়ী মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। এরপর ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কলেজগুলোতে ভর্তি কার্যক্রম চলবে। ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে একাদশ শ্রেণির ক্লাস।
আবেদন ও ভর্তি প্রক্রিয়া
এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হয়। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুযায়ী শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হচ্ছে। এবার একাদশে ভর্তির জন্য কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে না। আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল ২২০ টাকা।
ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রমে রাখতে পারেন। আবেদনকারীদের পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ ছিল ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত।
নীতিমালা অনুযায়ী, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের বছর এবং তার আগের দুই বছরের উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা একাদশে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। বিদেশি বোর্ড থেকে উত্তীর্ণদের ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে সনদের সমমান নির্ধারণের পর আবেদনের সুযোগ রয়েছে।
বিভাগ পরিবর্তনের সুযোগ
এবার একাদশে ভর্তিতে বিভাগ পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—তিন বিভাগের যেকোনোটিতে আবেদন করতে পারবেন।
অন্যদিকে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজ বিভাগের পাশাপাশি পরস্পরের বিভাগেও আবেদন করতে পারবেন। সব বিভাগের শিক্ষার্থীদের ইসলামী শিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ও সংগীত বিভাগে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাও নীতিমালা অনুযায়ী সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট বিভাগে ভর্তির সুযোগ পাবেন।
সংরক্ষিত আসন ও মেধাক্রম
ভর্তির ক্ষেত্রে কলেজগুলোর ৯৩ শতাংশ আসন সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।
এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হয়েছে। মহানগর, বিভাগীয় ও জেলা সদরের প্রতিষ্ঠানে এই মোট ২ শতাংশ কোটা প্রযোজ্য হবে। কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে ওই আসন মেধাতালিকা থেকে পূরণ করা হবে। এই কোটা ব্যবস্থা শুধু ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য।
সমান জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মেধাক্রম নির্ধারণে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করা হবে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মোট নম্বরও সমান হলে সাধারণ গণিত, উচ্চতর গণিত বা জীববিজ্ঞানের নম্বর বিবেচনা করা হবে। এরপরও সমতা থাকলে ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের নম্বর পর্যায়ক্রমে বিবেচনা করা হবে।
মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সমান নম্বর হলে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ের নম্বর পর্যায়ক্রমে বিবেচনা করা হবে।
স্কুল অ্যান্ড কলেজ বা নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ভর্তির যোগ্যতার শর্ত পূরণ করলে নিজ প্রতিষ্ঠানে অগ্রাধিকার পাবেন।
কলেজভেদে ভর্তি ফি
এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগরে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে সেশন চার্জ ও ভর্তি ফি সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যান্য মহানগরে সর্বোচ্চ ৩ হাজার, জেলা সদরে ২ হাজার এবং উপজেলা বা মফস্বল এলাকায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে।
নন-এমপিও ও আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগরে বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইংরেজি মাধ্যমে ৮ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে। অন্যান্য মহানগরে এই ফি যথাক্রমে ৫ হাজার ও ৬ হাজার টাকা।
জেলা সদরে বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৩ হাজার এবং ইংরেজি মাধ্যমে ৪ হাজার টাকা নেওয়া যাবে। উপজেলা ও মফস্বল এলাকায় বাংলা মাধ্যমে ২ হাজার ৫০০ এবং ইংরেজি মাধ্যমে ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিশ্চায়নে দিতে হবে ৩৪০ টাকা
প্রাথমিক ভর্তি নিশ্চায়নের সময় শিক্ষার্থীকে বোর্ডকে মোট ৩৪০ টাকা দিতে হবে। এর মধ্যে রেজিস্ট্রেশন ফি ১৪২ টাকা, ক্রীড়া ফি ৫০ টাকা, বিএনসিসি ফি ১০ টাকা, রোভার/রেঞ্জার ফি ১৫ টাকা, রেড ক্রিসেন্ট ফি ১৬ টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফি ৭ টাকা এবং শিক্ষক কল্যাণ ও অবসর সুবিধা ফি ১০০ টাকা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, বোর্ডের অনুমতি ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী ভর্তি বা ছাড়পত্র (টিসি) দিতে পারবে না। অনুমোদনহীন শাখা বা বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি, স্বীকৃতি বা এমপিওভুক্তি বাতিলের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এস





