পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষ জরুরি বৈঠক করে পাল্টাপাল্টি দাবি জানিয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতি প্রশাসনের কাছে চার দফা দাবি জানিয়ে গতকাল সোমবার থেকে কাজে যোগ দিয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষক পরিষদ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করে দুই কার্য সপ্তাহের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে কর্মকর্তা সমিতি জানিয়েছে, সামাজিক অনুষদের ডিন ও বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান এম আবদুল আলীমের ইন্ধনে কিছু সন্ত্রাসী প্রশাসনিক ভবনে হামলা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এর প্রতিবাদেই তারা চার দফা দাবি জানিয়েছে।
দাবিগুলো হচ্ছে প্রশাসনিক সব দায়িত্ব থেকে শিক্ষক আবদুল আলীমকে অব্যাহতি দেওয়া, লাঞ্ছনাকারী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ব্যক্তিগত যানবাহনসহ সব ক্ষতির ক্ষতিপূরণ ও ক্যাম্পাসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা প্রদান।
কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি জি এম শামসাদ ফকরুল বলেন, ‘স্মারকলিপিতে আগামী সাত দিনের মধ্যে দাবিগুলো পূরণের দাবি জানানো হয়েছে। দাবি পূরণের আশায় আমরা কাজে যোগ দিয়েছি। কিন্তু আগামী সাত দিনের মধ্যে দাবি না মানা হলে সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহৎ আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
এদিকে গতকাল সকালে শিক্ষক সমিতি জরুরি সভা করে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দুই কার্য সপ্তাহের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এই সময়ের মধ্যে শিক্ষকদের ওপর হামলাকারী ব্যক্তিদের শাস্তি না দেওয়া হলে তাঁরাও কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রতিবাদে আজ মঙ্গল ও কাল বুধবার শিক্ষকেরা কালো ব্যাজ ধারণ করবেন।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. কিসলু নোমান বলেন, ‘একজন শিক্ষকের ওপর হামলা কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করার মতো বিষয় নয়। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। সেই সঙ্গে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি। অন্যথায়, আমরা বৃহৎ আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করব।’
গত শুক্রবার পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষক এম আবদুল আলীমের সঙ্গে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে নিরাপত্তাকর্মীদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে সন্ধ্যায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কয়েকজন আবদুল আলীমকে লাঞ্ছিত করেন। রাতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হন। প্রতিবাদে তাঁরা পরদিন (শনিবার) সকালে ক্যাম্পাসে এসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধাওয়া দেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর হয়।





