কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রেমিকাকে পিটিয়েছে রাবি'র ছাত্রলীগ নেতা। অভিযুক্ত ওবায়দুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আব্দুল লতিফ হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের এমবিএ’র শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বদ্ধভূমিতে (গণকবর) এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে ছাত্রলীগ নেতা ওবায়দুর রহমান তার কথিত প্রেমিকাকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বদ্ধভূমির দিকে যায়। তিনি (ওবায়দুর) মেয়েটির সঙ্গে বসে দীর্ঘ সময় কথাবার্তাও বলেন। এর একপর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতা ওবায়দুর তাকে (মেয়েটিকে) ব্যাপক মারধর (চড়-থাপ্পর) করে। পরে মেয়েটি কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে সেখান থেকে চলে আসার উদ্দেশ্যে একটি রিকশায় ওঠেন। পরে তিনি (ওবায়দুর) তার রিকশাটি থামিয়ে জোরপূর্বক রিকশায় উঠে দ্বিতীয় দফা মেয়েটিকে মারধর করে।
রিকশাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বপাড়া মসজিদের সামনে পৌঁছালে ওবায়দুর রিকশা থেকে নেমে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। এসময় আশেপাশে থাকা লোকজন মেয়েটিকে উদ্ধার করে নগরীর পোস্টাল একাডেমির পাশে অবস্থিত তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়।
মেয়েটিকে বহনকারী ওই রিকশাওয়ালা জানান, আমার রিকশা চালানোর ২০ বছরেও একজন ছেলে এভাবে একজন মেয়েকে মারতে পারে তা কখনো দেখিনি।
ভুক্তভোগী ওই মেয়ে জানান, ওবায়দুর আমাকে শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য বিভিন্ন সময় চাপ প্রয়োগ করে আসছিলো। কিন্ত আমি তাতে অস্বীকৃতি জানালে আজ আমাকে পাবলিক প্লেসে ডেকে এনে মারধর করেছে। চর-ধাপ্পড় মেরে আমার শরীর ও মুখমণ্ডল জখম ও মাথা থেতলে দিয়েছে। আমার শরীরে প্রচণ্ড জ্বর চলে এসেছে।
অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা ওবায়দুর রহমান মারধরের কথা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মেয়েটির সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই অবস্থায়ও সে আরও তিন-চারজনের সাথে সম্পর্ক রাখতো। এই বিষয়গুলো নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বদ্ধভূমিতে তার সাথে আমার কথা হয়। পরে সে সেখান থেকে চলে যায়। মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক খালেদ হাসান বিপ্লব বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। বিস্তারিত জেনে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেএইচ





