এসএসসি পরীক্ষার্থী রিফাত আবদুল্লাহ খানের পরীক্ষা গ্রহণের জন্য দায়ের করা এক আবেদন নাকচ করে দিয়েছে আদালত। বুধবার দুপুরে মহানগর হাকিম স্নিগ্ধা চক্রবর্তী এই আদেশ দেন।

এদিকে, আজ (বৃহস্পতিবার) মহানগর হাকিম শাহরিয়ার আদনানের আদালতে রিফাতকে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ চেয়ে আবেদন করা হয়। সে আবেদনও আদালত নামঞ্জুর করেন।

একজন কিশোর শিক্ষার্থীর ওপর এমন কঠোর আচরণে বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেছেন আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যরা।  

এর আগে বুধবার দুপুরে রিফাতকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে পল্লবী থানায় দায়ের করা মামলায় ৩ দিনের রিমান্ড শেষে  আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশ এ মামলায় পুনরায় ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

এ সময় রিফাতের পক্ষের আইনজীবী শুক্রবারের পরীক্ষার কথা উল্লেখ করে পুলিশের রিমান্ড আবেদন বাতিল করে রিফাতকে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ দিতে আবেদন করেন। আদালত তা নামঞ্জুর করেন।

কারা কর্তৃপক্ষের হেফাজতেই রিফাত যাতে পরীক্ষা দিতে পারে সে মর্মে আদেশ চেয়েও আবেদন করেন রিফাতের আইনজীবী। শুনানী শেষে সেই আবেদনও নামঞ্জুর করা হয়।

এক পর্যায়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী রিফাতের আইনজীবীরা শুক্র ও শনিবার দুইটি পরীক্ষার পর রোববার থেকে এই রিমান্ড কার্যকরের আবেদন করেন। কিন্তু সেই আবেদনও মঞ্জুর হয়নি বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী এডভোকেট আবদুর রাজ্জাক।

শুনানিকালে এডভোকেট আবদুর রাজ্জাক বলেন, রিমান্ডে নেয়ার কোন যৌক্তিকতা নেই। ৩ দিনের রিমান্ডের আদেশ থাকলেও পুলিশ ইতিমধ্যে তাকে ৬ দিন আটক রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

তিনি বলেন, রিফাতের পরীক্ষা গ্রহনের জন্য কারা কর্তৃপক্ষ বা তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেছিলাম যা অত্যন্ত যৌক্তিক, মানবিক ও আইনসম্মত। কিন্তু দু:খের সাথে বলতে হয়, সেই আবেদনও নামঞ্জুর করা হয়।

তিনি বলেন, রিফাত একজন নাবালক ও সম্পূর্ণ নিরপরাধ কিশোর। তার বাবা রাজনীতি করেন, এটিই তার বড় অপরাধ। মূলত তার বাবাকে মানসিকভাবে চাপ দিতেই তাকে আটক করা হয়েছে। অথচ শিক্ষার সুযোগ পাওয়া রিফাতের মৌলিক অধিকার।

এডভোকেট রাজ্জাক বলেন, তার দীর্ঘ আইন পেশার জীবনে কখনো এমনটি দেখেননি আদালতে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ চেয়ে তা পাওয়া যায়নি। একজন তরুণ আদালতের কাছে এতটুকু সুযোগ পেল না এমন ঘটনার মুখোমুখি তিনি এর আগে হননি।

উল্লেখ্য, হলি চাইল্ড স্কুলের বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র রিফাত আব্দুল্লাহ খানকে উত্তরা হাইস্কুল কেন্দ্রে গত ২০ ফেব্রুয়ারি গণিত পরীক্ষার দিন বেলা ১২টায় পরীক্ষার হল থেকে সাদা পোশাক ধারী পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে একটি মাইক্রোবাসে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ পাচ্ছিল না।

এদিকে, বাসা থেকে প্রয়োজনে পুলিশ প্রহরায় পরীক্ষার হলে নিয়ে যাওয়া হবে এবং বাসায় ফেরত দিয়ে যাওয়া হবে-শিক্ষামন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এ ধরনের আশ্বাস দেয়ার পরও এভাবে একজন পরীক্ষার্থীকে চলমান পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত করায় হতাশা প্রকাশ করেছে রিফাতের পরিবার। একজন কিশোর ছাত্রের ওপর এমন কঠোর আচরণ না করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে রিফাতের পরিবার।

পরবর্তীতে জানা যায়, রিফাতকে আটকের পর মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে রাখা হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি তাকে আদালতে হাজির করে ডিবি পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে জামিন নামঞ্জুর করে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

কেবি