মানুষ সামাজিক জীব। একে অন্যের উপর নির্ভশীল। জীবন চলার বাঁকে এক মানুষের আনন্দ-বেদনা অন্য মানুষকে প্রভাবিত করে। শত কষ্টের মাঝেও অন্যের হাস্যজ্জোল চেহারা দেখে নিজেকে সামান্য খুশির রাজ্যে ভাসিয়ে দেয় প্রতিটি মানুষ। তেমনি অন্যের দু:খ দেখে তার পাশে দাঁড়াতে ব্যকুল হয়ে ওঠে মানব আত্মা। আর এই ব্যকুলতা থেকেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বুকে জন্ম হতে যাচ্ছে "Fatal Disease Recovery Foundation (FRDF) " বা "মারণব্যাধি নিরাময় ফাউন্ডেশন"-এর।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধায়নরত চৌদ্দ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রতি বছরেই দেখা যায় কেউ না কেউ ক্যান্সার, স্পাইনাল, মস্তিষ্কের টিউমার, হৃদরোগ, কিডনির বিকলতা বা ফুসফুসের জটিলতা এমন নানা মারণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবে এই প্রাণচঞ্চল সবুজের বুক থেকে হারিয়ে যায় অনেক প্রিয় মুখ। যা আমাদের বার বার ভাবিয়ে তোলে।

তাই মারণব্যাধিতে আক্রান্ত অসহায় ভাই/বোনটির পাশে দাঁড়াতে এফআরডিএফ গঠনের উদ্দোগ নিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ঝাঁক তরুণ প্রাণ।

প্রতি বছর ভর্তির সময় একজন শিক্ষার্থী যে পরিমাণ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়েরে ফান্ডে জমা দেয় তার সাথে এফডিআরএফ-এর ফান্ডে এক শত টাকা জমা দেবে প্রতিটি শিক্ষার্থী। এভাবেই সংগৃহিত হবে এফডিআরএফ-এর তহবিল। এক বছরে এক শত টাকা খুব বেশি না হলেও এই সামান্য টাকাই হতে পারে মারণব্যাধিতে আক্রান্ত একজন অসহায় শিক্ষার্থীর জন্য বড় ধরনের সাহায্য।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির নেতৃত্বে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কমিটি এই ফান্ডের অর্থ দেখভাল করবেন। এই ফান্ডের নামে সংগৃহীত অর্থ মারণব্যাধিতে আক্রান্ত শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ছাড়া অন্য কোনো খাতে ব্যবহৃত হবে না এবং এই ফান্ডের অর্থ অন্য ফান্ডে হাস্তান্তর করা হবে না।

মঙ্গলবার ইবি প্রেস কর্নারে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এফডিআরএফ-এর এ সকল তথ্য উত্থাপন করেন এই ফান্ড গঠনের উদ্দোক্তারা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আইন ও মুসলিম বিধানের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড.শাহজাহান মন্ডল, ড.গফুর গাজী, প্রফেসর ড.রেবা মন্ডল, এস এম শোয়েব, ইসমাত বিনতে জেরিন, মারুফ, মাহমুদুল হাসান, আশিক, শেতুনসহ এর সাথে জড়িত বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

এমআইএস