শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি ও ছুটি বিহীনভাবে দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) চার শিক্ষককে শাস্তি দিয়েছে সিন্ডিকেট।

এতে দেশের বাইরে থাকা দুইজনের একজনকে চাকরীচ্যুত ও আরেকজনকে বাধ্যতামূলক অবসরে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, নিয়োগ দুর্নীতির সাথে যুক্ত থাকায় বাকি দুইজনকে পদোবনতি করেছে সিন্ডিকেট।

আজ (০৫ এপ্রিল) শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪৪ তম সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আজ সকাল ১১ টা থেকে উপাচার্যের বাসভবনে সভা শুরু হয়। সভায় আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা ছিল শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির সাথে যুক্ত থাকা দুই শিক্ষকের শাস্তি বিষয়টি। এতে ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক শাহাদৎ হোসেন আজাদ ও বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বাকি বিল্লাহ বিকুলকে তাদের পদ থেকে একধাপ অবনতির সিদ্ধান্ত নেয় সিন্ডিকেট।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের সময় এক প্রার্থীর নিকট থেকে ২০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠে তাদের বিরুদ্ধে। সেসময় বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় নিয়োগ বাণিজ্যের কথোপকোথন প্রকাশ হয়। ঘটনা তদন্তে কমিটি করে কতৃপক্ষ। তদন্তে ঘটনায় তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পায় কমিটি। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাদেরকে প্রশাসনিক পদ থেকে বহিস্কার করে প্রশাসন।

অপরদিকে ছুটি বিহীনভাবে দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকার অভিযোগে আইসিই বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক মো: তারেকুজ্জামানকে চাকরিচ্যুত ও আইন বিভাগের অধ্যাপক গাজী উমর ফারুককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন সময় তাদেরকে ক্যাম্পাসে ফেরার নোটিশ দেওয়া হলেও তারা ক্যাম্পাসে না ফেরায় তাদের বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সিন্ডিকেটের সভাপতি ও উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, “অপরাধের ধরণ অনুযায়ী তাদেরকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞ সিন্ডিকেট বিচার বিশ্লেষণ করে তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যাবস্থা নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতি করার কোনো সুযোগ নেই।”

মুনজুরুল/এমবি