ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব সম্প্রতি শিবিরকে ‘গুপ্ত সংগঠন’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তারা পাকিস্তানি, স্বাধীনতা বিরোধী ও ’৭১ বিরোধী। সমালোচকরা বলছেন, এ বক্তব্য আসলে ছাত্রলীগের পুরনো ট্যাগ রাজনীতির পুনরাবৃত্তি।

মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঐতিহাসিক ভূমিকা থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রলীগ ট্যাগ রাজনীতির পথ বেছে নেয়। স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করতে কিংবা আধিপত্য বিস্তারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর ‘জামায়াত বা শিবিরপন্থী’ ট্যাগ লাগানো ছিল সংগঠনটির কৌশল। এর ফলে বহু শিক্ষার্থী সমাজে হেয়প্রতিপন্ন হয়েছেন, প্রশাসনের হয়রানির শিকার হয়েছেন, এমনকি জীবনও হারিয়েছেন।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ড এ ট্যাগ রাজনীতির ভয়াবহ রূপ। ভারতকে দেওয়া বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তাকে শিবির ট্যাগ দিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা রাতভর নির্যাতন করে হত্যা করে। এই ঘটনা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।

ছাত্রলীগ শুধু প্রতিপক্ষ নয়, নিজেদের ভেতরেও নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে ট্যাগ ব্যবহার করেছে। এর ফলে সংগঠনের গণতান্ত্রিক চর্চা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রকৃত নেতৃত্ব বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

এবার সেই একই কৌশলের শিকার হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি টেলিভিশন টকশোতে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাদিকুল ইসলাম মাসুম ডাকসু নির্বাচনের ধারাবাহিকতা ও গণরুম সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুললে ছাত্রদল সমর্থিত এজিএস প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদ তাকে সরাসরি ‘শিবির কর্মী’ বলে ট্যাগ দেন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অতিথিরা সঙ্গে সঙ্গে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানান।

এর আগে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব সংবাদ সম্মেলনে শিবিরকে ‘রক কাটা দল’ আখ্যা দিতে গিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিলেন। সমালোচকরা বলছেন, এ ধরনের আচরণ আসলে ছাত্রলীগের পথ অনুসরণ ছাড়া কিছু নয়।

ট্যাগ রাজনীতি সাময়িকভাবে কারও জন্য লাভজনক হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি। ভিন্নমতকে দমন করার এই প্রবণতা সমাজে ভয়, অবিশ্বাস ও বিভাজন সৃষ্টি করে। তরুণরা যেখানে আদর্শ, নীতি ও মুক্তচিন্তার চর্চা করবে, সেখানে তারা প্রতিপক্ষকে নির্মূল করতে ট্যাগ ব্যবহার করলে রাজনীতি অন্ধকারের দিকেই ধাবিত হবে।

শেখ হাসিনা সরকারও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ ট্যাগ দিয়ে জনগণকে উসকে দিয়েছিল। এর ফল কী হয়েছে, তা দেশবাসী দেখেছে পতন এড়াতে পারেনি সরকার।

ডাকসু নির্বাচনের মঞ্চে কিংবা জাতীয় রাজনীতিতে ট্যাগের রাজনীতি যে গণতন্ত্রের বিকৃতি, তা প্রমাণিত। ছাত্রদলের উচিত ছাত্রলীগের পরিণতি থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং ট্যাগ রাজনীতির বদলে যুক্তি, আদর্শ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব গড়ে তোলা। জনগণ ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে যে-ই হোক না কেন, ট্যাগের রাজনীতি এই দেশে টেকসই নয় এবং ভবিষ্যতেও জনগণ তা মেনে নেবে না।

এনএইচ