আগামীকাল ৯ই মার্চ বৃহস্পতিবার, ২০১৭। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬ তম আবর্তনের ২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষের ক্লাস শুরু হবে। নতুন বর্ষের শিক্ষার্থীদের আাগমনে ভরে উঠবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ইতোমধ্যেই আসতে শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা। এ বছর ছয়টি অনুষদের অধীনে মোট ৩৪টি বিভাগ ও দুইটি ইনিস্টিটিউট মিলিয়ে মোট ২০৩০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়েছে। যার মধ্যে ছাত্র ১০২৭ ও ছাত্রী ৯৯৩ জন। 

 

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আাধার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। সবুজের চাদরে মোড়ানো নয়নাভিরাম বৈশিষ্ট্য নিয়ে ঢাকা- অরিচা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত ৭০০ একরের এক বিশাল ক্যাম্পাস। শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের আন্তরিকতার এক মিলনস্থান। সেইসাথে শিক্ষকদের উপদেশ আর সঠিক দিকনির্দেশনা এবং সিনিয়রদের আন্তরিকতা, সবমিলিয়ে পথচলাটা শুরু হবে দারুণভাবে। নবীনদের পদচারণে মুখরিত হবে জাবি ক্যাম্পাস।

বিভাগ, হল, টারজান পয়েন্ট, ট্রান্সপোর্ট , বটতলা, সপ্তম ছায়ামঞ্চ, মুন্নি চত্বর, মুরাদ চত্বর, শহীদ মিনার সর্বত্রই মুখরিত থাকবে নবীনদের পদচারনায়। দলবেধে হল থেকে ক্লাসে আসা আবার হলে ফেরা, বিকেল থেকে রাত অবধি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ঘুরাঘুরি করা তাদের সরব উপস্থিতি জানান দেবে। নতুনদের বরণ করে নিতে ইতোমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সহ প্রায় সব বিভাগ ও হলই তাদের কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ১৯মে মার্চ প্রবেশিকা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। বিভাগ ও হলেও প্রতিবছরের ন্যয় এবারও নবীনদের বরণ করতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এমনটাই জানালেন কয়েকটি বিভাগের সভাপতি ও হলের প্রভোষ্ট। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় ৪৫ তম আবর্তনের র্শিক্ষার্থীরা আগামীকালই তাদের নিজ নিজ বিভাগে ‘নবীন বরণ’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুনদের বরণ করে নিতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ৪৫ অবর্তনের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মাসুম নবীনদের শুভকামনা জানিয়ে তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি জায়গা যেখানে নিজেদের খুঁজে পাবার যেমন অনেক কিছু আছে তেমনি হারিয়ে যাবার ও আনেক কিছু আছে। এখন নতুনদেরই ঠিক করে নিতে হবে তারা কোন পথে হাটবে। তারা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম কানুন মেনে চলে তবেই তারা তাদের এবং মা- বাবার ইচ্ছাকে বাস্তবায়ন করতে পারবে বলে আমি মনে করি।’

পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ৪৫ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মামুন- উর- রশীদ প্রান্ত ও অপূর্ব বলেন, ‘নতুন একটি জায়গায় এসে তারা হয়ত অনেক ভূল পথে চলে যেতে পারে যা তাদের জন্য ধ্বংস ডেকে আনবে। তারা যদি সময়কে সঠিক ভাবে কাজে লাগায় তবেই তা হবে মঙ্গলজনক। আর আমরা যদি তাদেরকে সন্ত্রাস মুক্ত ক্যাম্পাস উপহার দিতে পারি তাহলে এটাই হবে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় সার্থকতা।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম নতুন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় অনেক বড় একটি জায়গা। অনেকেই প্রথম দিকে মানিয়ে নিতে হিমশিম খায়। আমি বলব যে, সাহস রাখতে হবে এবং সব বাধা পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আর তাদের যা যা পাওয়া উচিত আমরা তাদের দেব। কিন্তু ধৈর্য্য ধরতে হবে, হতাশ হওয়া যাবে না। নিয়মিত ক্লাস করতে হবে এবং শিক্ষক ও বড় ভাই- বোনদেরকে শ্রদ্ধা করতে হবে। আর আমরা সবাই তাদের যেকোন সমস্যা সমাধানের জন্য যথেষ্ট আন্তরিক আছি।’

এদিকে শিক্ষার্থীদের ক্লাস কারার সুবির্ধার্থে নিন্ম বর্ণিত রুটে বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ‘ক’ রুটে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে সকাল সাড়ে ৭ টায় দুটি বাস ক্যাম্পাসে আসবে এবং বিকাল ৩টায় জহির রায়হান মিলনায়তনের সামনে থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে । ‘খ’ রুটে সকাল সাড়ে ৭টায় এয়ারপোর্ট থেকে ক্যাম্পাসে আসবে একটি বাস এবং বিকাল ৩টায় জহির রায়হান মিলনায়তনের সামনে থেকে এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। ‘গ’ রুটে সকাল সাড়ে ৭টায় মিরপুর- ১০ থেকে একটি বাস ক্যাম্পাসে আসবে এবং বিকাল ৩টায় জহির রায়হান মিলনায়তনের সামনে থেকে মিরপুর- ১০ এর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।

নবীনদের বরণ করে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নানা কর্মসূচি সাজাতে ব্যস্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের জেলা সমিতিগুলো ও নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য গেট টুগেদার, পিকনিকসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করে থাকে । এভাবে জাহাঙ্গীরনগর ক্যাম্পাসের সবাই ধীরে ধীরে হয়ে উঠে এক পরিবারের সন্তান। আর এরকম উৎসবে উৎসবে নতুন অতিথিদের পথ চলা শুভ হউক প্রিয় জাহাঙ্গীরনগরে।

রাইয়ান/জারিফ