পয়লা বৈশাখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে’ সব অনুষ্ঠান বিকেল পাঁচটার মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মজিবুল হক আজাদ খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

বুধবার সকাল থেকে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দোকান ও স্টলে প্রচার করা হচ্ছে। ছাত্রী হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের ডেকে বিকেল পাঁচটার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করে হলে ফেরা, বড় ব্যাগ ব্যবহার না করার জন্য প্রাধ্যক্ষদের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন।

প্রক্টর দপ্তরের ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে ১ বৈশাখ ১৪২৩ তারিখে ক্যাম্পাসের সব দোকান/স্টল/ অনুষ্ঠান বিকেল পাঁচটার মধ্যে বন্ধ বা শেষ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

জানতে চাইলে প্রক্টর অধ্যাপক মজিবুল হক আজাদ খান বলেন, ‘সরকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নির্দেশ দিয়েছে বিকেল পাঁচটার মধ্যে পয়লা বৈশাখের সব অনুষ্ঠান শেষ করতে। সেই অনুযায়ী ক্যাম্পাসেও সবাইকে পাঁচটার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অন্ধকার নেমে আসলে দুষ্কৃতিকারীরা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও রাজশাহী নগরের যারা ক্যাম্পাসে বৈশাখ উদযাপন করতে আসবেন তাদের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তমাশ্রী দাস বলেন, পয়লা বৈশাখের মতো একটি সর্বজনীন উৎসবে সরকার সবার নিরাপত্তা দিতে না পারায় সান্ধ্য আইনের মতো করে সবাইকে ঘরে আটকে রাখার চেষ্টা করছে। আর বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হয়ে কীভাবে এটা পালনের নির্দেশনা দিতে পারে? এটা সামাজিক অধিকার ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের শামিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ও নাট্য ব্যক্তিত্ব মলয় কুমার ভৌমিক বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কাছে যদি নাশকতার কোনো তথ্য থাকে তবে সরকার বৃহত্তর মঙ্গলের স্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

তবে এর মধ্যে দিয়ে এটাও প্রমাণ হয় আমরা মুক্ত পরিবেশে উৎসব করতে পারছি না।’

এমই