নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া দূরত্বসীমার ভুল তথ্যের কারণে সরকারিকরণে বঞ্চিত হচ্ছে চর জাব্বার ডিগ্রি কলেজ।

এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে পুরো এলাকায় এবং কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

উপজেলা সদরের দেড় কিলোমিটার কাছাকাছি থাকা সত্তে¡ও চর জাব্বার ডিগ্রি কলেজকে তিন নম্বরে ও ৬ কিলোমিটার দূরে হওয়ার পরও সৈকত ডিগ্রি কলেজকে তালিকার এক নম্বরে স্থানে রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৯ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রেরিত সূবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের স্বারক নম্বর ৪২১-এর মাধ্যমে উপজেলার এমপিওভূক্ত কলেজ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তথ্য প্রেরণের ছকে হাতিয়া উপজেলা সীমানা সংলগ্ন এবং উপজেলা পরিষদ থেকে সৈকত ডিগ্রি কলেজের দূরত্ব ৬ কিলোমিটারের স্থলে তিন কিলোমিটার উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, চরজাব্বার ডিগ্রি কলেজের দূরত্ব দুই কিলোমিটার দেখানো হয়। এতে দুইটি কলেজই উপজেলা সদরের কলেজ হিসেবে অনেকটা সমান গুরুত্ব লাভ করে।

এরই আলোকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এর নির্দেশক্রমে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার সৈকত ডিগ্রী কলেজকে সরকারিকরণের যৌক্তিকতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর গত ১১জুন ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিদর্শন টিম গঠন করে।

পরিদর্শন টিম আগামী ৩০ শে জুনের মধ্যে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ পূর্বক পরিদর্শন প্রতিবেদন ০৫ জুলাই মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে জমাদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করে।

চর জব্বর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান জানায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রেরিত ছকে উল্লেখিত তথ্যটি জানাজানি হওয়ার পর দূরত্বসীমায় তথ্য বিভ্রাটে আপত্তি জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী, সচিব শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মহাপরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা ও জেলা প্রশাসকের নিকট একটি চিঠি দেন।

ওই চিঠিতে অধ্যক্ষ অভিযোগ করেন, উপজেলা সদর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে হওয়ার পরও প্রেরিত ছকে দূরত কমিয়ে তিন কিলোমিটার উল্লেখ করে কম দূরত্ব দেখিয়ে সৈকত ডিগ্রি কলেজকে তালিকার এক নম্বরে স্থান দিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সরকারিকরণের প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে।

এতে ইচ্ছাকৃতভাবে উপজেলা সদরের দেড় কিলোমিটার কাছাকাছি থাকা সত্তে¡ও চর জব্বর ডিগ্রি কলেজকে খাট করে দেখানো হয়েছে। তাই অধ্যক্ষ এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এদিকে, উপজেলা প্রশাসনের প্রেরিত তথ্য ও তালিকার আলোকে গত ১১ জুন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে প্রেরিত এক অফিস আদেশে সরকারিকরণের যৌক্তিকতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে উপজেলার সৈকত ডিগ্রি কলেজের নাম অন্তর্ভূক্তি করা হয়।

অথচ অজ্ঞাত কারণে উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী চরজব্বর ডিগ্রি কলেজটি সরকারিকরণের যৌক্তিকতায় যাচাইয়ের তালিকায় স্থান পায়নি। এ নিয়ে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায় ও কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে।

চরজাব্বার থানা উন্নয়ন সভাপতি সহিদ উল্ল্যা বাচ্চু জানায়, চরজাব্বার থানার সদর দপ্তর সংলগ্ন এক কিলোমিটার দূরত্বে প্রতিষ্ঠিত এলাকার সর্বোচ্চ ও ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ চরজাব্বার ডিগ্রী কলেজ। ১৯৯৩ ইং সালে জেলার সদর দক্ষিণাঞ্চলে চরজাব্বার থানার চার লক্ষাধিক জনগণের সন্তানদের উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয় এ কলেজটি।

থানার নামানুসারে প্রতিষ্ঠিত এ কলেজে বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় দেড় সহস্রাধিক। একই মৌজাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সুবর্ণচর উপজেলা সদর দপ্তর, চরজাব্বার থানা সদর দপ্তর, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্স, রব্বানিয়া কামিল (এমএ) মাদ্রাসা, শহীদ জয়নাল আবেদীন মডেল উচ্চ বিদ্যালয়সহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রস্তাবিত পৌরসভার সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উপজেলা কার্যালয়।

তিনি জানান, স্থানীয় জনগণের দাবিকে উপেক্ষা করে উপজেলা সদরে প্রতিষ্ঠিত প্রথম ও ঐতিহ্যবাহী কলেজটিকে বঞ্চিত করে দুরবর্তী এলাকার কলেজটি সরকারিকরণ কার স্বার্থে(?) কোন নীতিমালার আলোকে ? কেনই বা এ মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য উপাত্ত দিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরী করার অশূভ পাঁয়তারা করা হচ্ছে ?

কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উপজেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী কলেজ হওয়া সত্তে¡ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চর জব্বার ডিগ্রি কলেজের নাম জাতীয়করণের যৌক্তিকতা যাচাইয়ে না দিয়ে দূরের একটি কলেজের নাম অন্তর্ভূক্ত করেছে, যা খুবই দু:খজনক।

সুবর্ণচর উপজেলাবাসীর দাবি মোতাবেক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক গঠিত একটি নিরপেক্ষ পরিদর্শন টিমের মাধ্যমে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে উপজেলা সদর দপ্তর সংলগ্ন চরজাব্বার ডিগ্রী কলেজকে সরকারিকরণের যৌক্তিকতা যাচাইকল্পে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জাতির জনক তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা।

এসএইচ