বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের স্বপ্নই থাকে মেডিকেলে পড়া। একজন চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করা। আজ সেই স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপ হচ্ছে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া। হাজার হাজার মেধাবী শিক্ষার্থী এবার মাত্র ৩ হাজার ৬৯৪টি আসনের বিপরীতে ভর্তিযুদ্ধে অংশ নেবেন। ২৯টি সরকারি মেডিকেল কলেজে আসন সংখ্যা ৩ হাজার ১৬২টি এবং ৯টি ডেন্টাল কলেজে আসন সংখ্যা ৫৩২টি। বেসরকারি ৫৫টি মেডিকেল ও ১৮টি ডেন্টাল কলেজের মোট আসন সংখ্যা ৫ হাজার ৯০০টি। আগামী ২৪ অক্টোবর ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বল্পসংখ্যক আসনের বিপরীতে ব্যাপক মেধাবী শিক্ষার্থীর এ ভর্তিযুদ্ধ স্বপ্নপূরণের প্রাথমিক ধাপ।

ভর্তির জন্য শুধু সারাদিন পড়াশোনা করলেই চলবে না। জানা চাই সাফল্য লাভের কিছু কৌশল। আর এ ব্যাপারে আরও পরামর্শ দিয়েছেন ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া আনিকা তাহসিন। বিশ্বাস রেখ হৃদয়জুড়ে, প্রত্যয় অনুভবে, স্বপ্ন জয়ের যুদ্ধে এবার, সফল তুমি হবেই হবে।

ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের কমপক্ষে ৪০ নম্বর পেতে হবে। পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে ৪০ নম্বরের কম পাওয়া কোনো শিক্ষার্থী মেডিকেলে ভর্তি হতে পারবেন না। এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএর ভিত্তিতে ১০০ এবং ভর্তি পরীক্ষার ১০০সহ মোট ২০০ নম্বরের মধ্যে পাস নম্বর ১২০। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে যেসব শিক্ষার্থী জিপিএ ৮ পেয়েছেন শুধু তারাই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। এই শর্ত ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে এমবিবিএস/বিডিএস কোর্সে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য হবে।

কখনোই পড়নি, এমন কিছু নতুন করে এখন আর পড়তে যাবে না। এতে সময় নষ্ট হয় বেশি। বিগত বছরগুলোয় বারবার এসেছে, এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পড়ার ক্ষেত্রে বাদ দিয়ে থাকলে, সেগুলো আয়ত্ত করে ফেলাই হবে এখন বুদ্ধিমানের কাজ। সেসঙ্গে পড়া বিষয়গুলোও বারবার দেখো। কারণ অস্পষ্ট ধারণা নিয়ে পরীক্ষার হলে গেলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। নিশ্চয়ই তোমাদের জানা আছে, একটা ভুলের জন্য ০.২৫ নম্বর করে কাটা যাবে। অর্থাৎ চারটি ভুল উত্তরের জন্য তুমি হারাচ্ছ একটি সঠিক উত্তরের নম্বর

রসায়ন
রসায়ন দ্বিতীয় পত্র থেকে প্রশ্ন করা হয় বেশি। যেসব বিক্রিয়া বিজ্ঞানের নামে নামাঙ্কিত, সেসব বিক্রিয়া ও তার আবিষ্কারের সাল খেয়াল রেখো। সবচেয়ে গুরুত্ব দাও মৌলের পর্যাবৃত্ত ধর্ম, ডি-বল্গক মৌল, জৈব এসিড, হাইড্রোকার্বন ইত্যাদি বিষয়ে। রাসায়নিক বন্ধন, তড়িৎ রাসায়নিক কোষ, অ্যালডিহাইড ইত্যাদি বিষয়ে বিশেষ নজর দাও।

জীববিজ্ঞান
প্রাণিবিজ্ঞান বই থেকেই বেশিরভাগ প্রশ্ন করা হয়। বিশেষ করে মানবদেহ অধ্যায়। তাই মানবদেহের খুঁটিনাটি তথ্যগুলো ভালোভাবে ঝালিয়ে নাও। পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে প্রতিটি তন্ত্র ও প্রক্রিয়াগুলোর ওপর। উদ্ভিদবিজ্ঞানের জন্য উদ্ভিদের ভিন্নতা, জৈবনিক প্রক্রিয়া এ বিষয়গুলো থেকেও বিগত বছরগুলোয় অনেক প্রশ্ন আসতে দেখা গেছে। কোন বিজ্ঞানী কোন মতবাদের জন্য বিখ্যাত, কোন সূত্রটি কত সালে আবিষ্কৃত হয়েছে, এসব তথ্য নখদর্পণে থাকতে হবে। তবে ভর্তি পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সংজ্ঞা, বইয়ের সব ছক বৈশিষ্ট্য, পার্থক্য_ এই অংশগুলো থেকেও প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা বেশি।

পদার্থবিজ্ঞান
পদার্থবিজ্ঞানে যেসব সূত্র খুব বেশি পরিচিত, আবার যেসব সূত্র ব্যবহার করে সহজে ছোট অঙ্ক কষা যায়, সেসব প্রশ্নই দেওয়া হয়। যেহেতু পরীক্ষার হলে ক্যালকুলেটর নিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই, তাই এ জাতীয় প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর মনে রাখার বিকল্প নেই। সঙ্গে সঙ্গে পার্থক্য, একক মান ইত্যাদি যত ছক আছে, ভালোভাবে মনে রেখো।

সাধারণ জ্ঞান
বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঘটে যাওয়া আলোচিত ঘটনাগুলো সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখার জন্য দৈনিক পত্রিকাগুলোয় প্রতিদিন চোখ বোলাও। এ ছাড়া ক্ষুদ্রতম, বৃহত্তম, প্রথম ও একমাত্র এ ধরনের বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্ব দাও। বিসিএস পরীক্ষার গত কয়েক বছরের প্রশ্নগুলো সমাধান করলে তা কাজে দেবে।

ইংরেজিতে একটু বাড়তি মনোযোগ দাও।

কিছু কথা
শুধু পড়াশোনা করাই মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। পড়তে হবে কনসেপ্ট পরিষ্কার করে। কারণ প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হয় ঘুরিয়ে-পেচিয়ে।

এ জন্য পরীক্ষার হলে একটু কৌশলী হতে হবে। প্রথম ২৫ মিনিটে নিশ্চতভাবে জানা ৫০-৬০টি উত্তর দাগিয়ে নিতে পার। পরের ২০ মিনিটে মোটামুটি সহজ, এ রকম ২০-৩০টি উত্তর দাগিয়ে ফেলতে পারলে ভালো হয়। ৭০-৮০টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়ে ফেললে চিন্তামুক্ত থাকবে। এরপর 'উত্তর এমন হতে পারে কিন্তু মনে পড়ছে না', এ রকম প্রশ্নগুলো নিয়ে চিন্তা করার সময় পাবে। কোনো প্রশ্নের পেছনে অযথা অতিরিক্ত সময় নষ্ট করার কোনো মানে নেই। দ্রুত পরের প্রশ্নে চলে যাবে। অনেকেই জিজ্ঞাসা করে থাকে, প্রস্তুতির জন্য দিনে কত ঘণ্টা পড়া উচিত। আমি বলব, যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো বিষয় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না হয়, ততক্ষণ পড়া উচিত।

বিশ্বাস রেখ হৃদয়জুড়ে
অনেক পরীক্ষার্থী পরীক্ষার আগে নার্ভাস ফিল করে থাকে। ফলে তারা পরীক্ষায় খারাপ করে ও মূল্যবান সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। তাই পরীক্ষার আগে নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিজের প্রতি বিশ্বাস রেখে ঠিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলের সাফল্য অবধারিত।

ঢাকা, ৩১ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ